এল ক্লাসিকো তার রোমাঞ্চটা যেন তুলে রেখেছিল যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের জন্য। ইনজুরি টাইমের সাত মিনিটই যে দেখল দুটো গোল! শেষটা করল বার্সা, তবে তাতে লাভ হলো না খুব একটা। রিয়াল মাদ্রিদ যে ম্যাচটা বের করে নিয়ে গেছে ২-১ ব্যবধানে! তাতে ৫৬ বছরের পুরনো এক স্বাদও পেয়ে গেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।

বার্সায় লিওনেল মেসি নেই, ওপাশে রিয়াল মাদ্রিদে নেই সার্জিও রামোস। শেষজন ফিট থাকলে হয়তো আজ দুজনকে দেখা যেত একই দলে। আর এদিকে দেখা মিলত অদ্ভুত এক এল ক্লাসিকোর। 

রামোস নামছেন না পিএসজির হয়ে। তবে তাতে বার্সা রিয়ালের বাস্তবতাটা বদলে যায়নি। গেল মৌসুমের দুই অধিনায়ককে ছাড়া দুই দল নেমেছিল মাঠে। মেসির অভাবটা বার্সা বুঝেছে ভালো করেই, ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদে যে রামোস ছিলেন না, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল না যেন। গোলমুখ আগলে রাখতেন, করতেন গোলও। সে কাজটা যে ভালোভাবেই করেছেন তার বদলে এ মৌসুমেই রিয়ালে আসা ডেভিড আলাবা!

সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডারের গোলেই তো ৩১ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। তবে এর আগে অবশ্য দুই দলই লড়েছে সমানে সমানে। ২৫ মিনিটে বার্সেলোনা ডিফেন্ডার সার্জিনিও ডেস্ট প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোলের দেখা পাননি, শটটা গেছে ক্রসবারের ওপর দিয়ে। 

বড় ম্যাচে যা হয়, কষ্টেসৃষ্টে আসা সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হয় ভালোভাবে, নাহয় মাসুল গুণতে হয়, সেটাই হয়েছে আজ বার্সার সঙ্গে। ডেস্টের সেই মিসের মিনিট ছয়েক পরই আলাবার গোলে রিয়ালের জবাব পায় বার্সা। এ গোলে এগিয়ে থেকেই রিয়াল বিরতিতে যায়। 

আনসুমানে ফাতি বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। তাই হয়তো কোচ রোনাল্ড কোম্যান তাকে ৭২ মিনিটে তুলে নামান সার্জিও আগুয়েরোকে। আর্জেন্টাইনের আগমনে আক্রমণে গতি পায় বার্সা। তবে গোল যেন সোনার হরিণ হয়েই ছিল কাতালানদের জন্য। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একটা সুযোগ নষ্ট করে দলটি। প্রতি আক্রমণে উঠে আসা মার্কো অ্যাসেন্সিওর শট ঠেকান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। তবে লুকাস ভাসকেজের ফিরতি চেষ্টাটা আর রুখতে পারেননি। দুই গোলে এগিয়ে রিয়ালের জয়টাও নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই।

খেলার শেষ মিনিটে সার্জিনিও ডেস্টের বাড়ানো বল থেকে দারুণ এক ফ্লিকে গোল করেন সার্জিও আগুয়েরো, তবে ততক্ষণে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে। সে গোলটা কেবল তখন হারের ব্যবধানটা ভদ্রস্থ করার কাজই করতে পেরেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ তাতে মাঠ ছাড়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে। পেয়ে যায় ৫৬ বছরের পুরনো এক স্বাদও। এই নিয়ে শেষ চারটি এল ক্লাসিকোর চারটিই জিতল রিয়াল, শেষবার এর সমান, বা এর চেয়ে বেশি এল ক্লাসিকোয় টানা জিতেছিল দলটি সেই ১৯৬৫ সালে। সেবার লিগে ছয়টি, আর কোপা দেল রেতে একটি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছিল রিয়াল। বেনজেমারা সেই ভুলতে বসা সেই স্বাদটাই যেন ফিরিয়ে দিলেন ক্লাবকে।

তবে এমন সব রেকর্ডের চেয়ে জয়, আর পয়েন্ট তালিকার দিকেই হয়তো বেশি নজর থাকবে কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির দলের। ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষেই আছে রিয়াল। আর বার্সার শীর্ষ চারে আসতে পারা নিয়েই লেগে গেছে টানাটানি। ৯ ম্যাচে ৪ জয় আর তিন ড্রয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দলটি আছে পয়েন্ট তালিকার আট নম্বরে।
এনইউ