এক সময় ডিগ্রি ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ দুনিয়ায়।

২০২৫ সালে এসে ‘কলেজ ড্রপআউট’ শব্দটি নতুন অর্থ পেয়েছে। এটি এখন অনেকের কাছে গর্বের পরিচয়। বিশেষ করে এআই–নির্ভর স্টার্টআপের ক্ষেত্রে।

স্টিভ জবস, বিল গেটস বা মার্ক জুকারবার্গ। এই নামগুলো নতুন নয়। তারা কেউই কলেজ শেষ করেননি। এই গল্পগুলোই বারবার ফিরে আসে।

তবে পরিসংখ্যান অন্য কথা বলে। গবেষণায় দেখা যায়, বেশির ভাগ সফল স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতারাই ডিগ্রিধারী। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে তাদের।তারপরও ড্রপআউটের মোহ কমছে না। বরং নতুন করে বাড়ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের একটি অংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, ড্রপআউট হওয়া মানে সাহস। মানে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা। মানে নিজের আইডিয়ায় গভীর বিশ্বাস।

মক্সি ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা কেটি জ্যাকবস স্ট্যান্টন বলেন, ড্রপআউট হওয়াটাই এখন একধরনের ‘ক্রেডেনশিয়াল’। এটি উদ্যোক্তার দৃঢ়তা দেখায়।

তবে বাস্তবতা পুরোপুরি এমন নয়। এআই দুনিয়ার অনেক বড় নামই ডিগ্রি শেষ করেছেন। কার্সর-এর সিইও মাইকেল ট্রুয়েল এমআইটি থেকে পাশ করেছেন। কগনিশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্কট উ হার্ভার্ডের গ্র্যাজুয়েট।

তারপরও তরুণদের মধ্যে এক ধরনের তাড়া কাজ করছে। একটি ভয়, একটি ফোমো! এখন না নামলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে— এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।

অনেকে ভাবছেন, ডিগ্রি শেষ করতে গেলে এআই বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টি হারিয়ে যাবে। এই ভাবনা থেকেই কেউ কেউ বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে স্টার্টআপ গড়েছেন মারকর-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেন্ডান ফুডি।

এমন উদাহরণ বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও চরম। একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন, এক ছাত্র শেষ সেমিস্টারে কলেজ ছেড়ে দিয়েছেন। তার বিশ্বাস ছিল, ডিগ্রি থাকলে বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হবে।

তবে সব বিনিয়োগকারী একমত নন। জেনারেল ক্যাটালিস্টের ইউরি সাগালভ বলেন, শেষ বর্ষে ড্রপআউট হলে তাতে তেমন পার্থক্য হয় না। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল মূল্য ডিগ্রিতে নয়। মূল্য আছে নেটওয়ার্কে, মূল্য আছে পরিচয়ে। লিংকডইনে নাম দেখলেই অনেক কিছু বোঝা যায়।

অন্যদিকে ভিন্ন মতও আছে। এফপিভি ভেঞ্চার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়েসলি চ্যান সতর্ক। তিনি তরুণ ড্রপআউটদের নিয়ে খুব উৎসাহী নন। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রজ্ঞা। যা আসে অভিজ্ঞতা থেকে। ভুল থেকে, ব্যর্থতাও থেকে।

তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়। ডিগ্রি কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে? নাকি এটি শুধু একটি ট্রেন্ড?

এআই যুগে হয়তো নিয়ম বদলাচ্ছে। কিন্তু পথ একটাই নয়। ড্রপআউট হওয়াই সাফল্যের গ্যারান্টি নয়। আবার ডিগ্রি থাকলেই পিছিয়ে পড়তে হবে— তাও নয়।