আকাশছোঁয়া পাহাড়, সতেজ সবুজ বনানী, চড়াই-উতরাই পাহাড়ি পথ, খরস্রোতা পাহাড়ি নদী, উপত্যকার জীবন, সব মিলিয়ে নেপাল। শোনা যায়, সেদেশের অধিবাসীরা মোমো, থুকপা অথবা ডাল-ভাত-তরকারি খেয়ে বেঁচে থাকে। এমনকি যারা নেপালের রাস্তায় হেঁটেছেন তারা প্রায়ই ‘ডাল-ভাত পাওয়ার টোয়েন্টিফোর আওয়ার’ স্লোগানটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নৃগোষ্ঠী, মাটি ও আবহাওয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে নেপালের রান্না। অনেকে মনে করেন চীন, তিব্বত ও ভারতের সঙ্গে তাদের রান্নার কিছুটা মিল রয়েছে। নেপাল ভ্রমণে গেলে যেসব খাবার না খেয়ে দেশে ফিরতে পারেন না - এসব নিয়েই আজকের আয়োজন। 

ঢিড়ো বা ঢেড়ো 

ঢিড়ো বা ঢেড়ো

ভুট্টা, গমের আটা, লবণ ও গরম পানি একসঙ্গে সিদ্ধ করে যে গোল গোল মণ্ড তৈরি করা হয় সেটি নেপালের স্থানীয় জনসাধারণের কাছে ঢিড়ো বা ঢেড়ো নামে পরিচিত। এটি নেপালের সাধারণ মানুষের খাবার। কালক্রমে এটি নেপালের ঐতিহ্যবাহী খাবারে রূপান্তরিত হয় এবং উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকেরা একে নিজেদের ঐতিহ্যের অংশ মনে করে নিয়মিত খেয়ে থাকেন। নেপালের যেকোনো রেস্তোরাঁয় গেলে এ খাবার ডাল-ভাত-তরকারির মতোই পাওয়া যায়। পুষ্টিগত সুবিধা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নেপালীরা ঢিড়ো বা ঢেড়ো খান। 

থাকালি থালি

থাকালি থালি

নেপালের অন্যতম প্রসিদ্ধ খাবার থাকালি থালি। দেশটির স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় নেওয়ারিরা এ খাবার খেয়ে থাকেন। থাকালি থালিতে থাকে ভাত, রুটি, পাঁপড় ও ঘি-ডাল, মুলা ভাজি, সরিষা শাক ভাজি, মুরগির ঝোল, ঝাল আচার, পনির, পেঁয়াজ, শসা ও গাজর। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নেওয়ারিরা রাতভর ‘ইয়োমারি পুন্নি’ উৎসব পালন করেন। এতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই শামিল হন। উৎসবটির অন্যতম আয়োজন নাচ ও গানের মাধ্যমে ইয়োমারি খাওয়া এবং চাঁদের বন্দনা করা। ইয়োমারি হলো এক ধরনের পিঠা। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠার মতো। 

সেল ও মাখন রুটি 

সেল ও মাখন রুটি

দেখতে ডোনাট ও ব্যাগেলের মতো। স্বাদে মিষ্টি এ খাবার নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। দেশটির তিহার ও দাসিয়ানদের ধর্মীয় উৎসবে খাবারটি তৈরি করা হয়। ময়দার তৈরি সেল রুটি কড়া করে ভাজার ফলে বাইরেটা হয় একদম মুচমুচে আর ভেতরটা হয় নরম। সেল রুটির সঙ্গে মাখন রুটিতে কেবল আলাদাভাবে মাখনের পুর দেওয়া হয়। নেপালের স্থানীয় জনসাধারণ সেল রুটি ও মাখন রুটি সকালের নাশতা হিসেবে খান। এর সঙ্গে অনেকে দই দিয়ে তৈরি সস ও সবজি খান, আবার অনেকে মুরগি অথবা খাসির মাংস খান। 

মোমো ও থুকপা 

মোমো ও থুকপা

নেপালের মসলা দিয়ে তৈরি তিব্বতীয় খাবার মোমো নেপালের ঐতিহ্যবাহী খাবার। প্রথমে খাবারটিতে মহিষের মাংসের পুর দেওয়া হলেও এখন খাসি বা মুরগির মাংসের পুর দেওয়া হয়। অনেকে আবার শাকসবজিও এতে দেন। তিহারসহ দেশটির অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে সেল রুটি ও মোমো খাওয়া হয়। 

ডাল-ভাত-তরকারি 

ডাল-ভাত-তরকারি

নেপালের প্রধান খাবার হলো ডাল-ভাত। তবে নেপালিরা ডাল-ভাতের সঙ্গে ভাজি এবং তরকারিও খান। প্রতিদিন দুপুর ও রাতে তারা ডাল, ভাত ও তরকারি খেয়ে থাকেন। 

গুন্দ্রুক

গুন্দ্রুক

নেপালের অন্যতম প্রসিদ্ধ খাবার হলো গুন্দ্রুক। দেশটির টক জাতীয় কিছু পাতা দিয়ে খাবারটি তৈরি হয়। গুন্দ্রুক রান্নার জন্য সরিষা, মুলা ও ফুলকপির সঙ্গে এসব পাতা একটি মাটির পাত্রে একদিন বা দুদিন রেখে দিতে হয়। তাতে সবুজ পাতায় টক টক ভাব চলে যায়। 

তংবা

তংবা

তংবা একটি পানীয়। নেপালীদের কাছে খুব প্রিয় একটি পানীয়। একে ভুট্টার শরবত বললেও ভুল হবে না। নেপালের লিম্বু জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী এ পানীয় একটি বাঁশের মগে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে বাঁশের তৈরি স্ট্র থাকে। শীতের সময় নেপালীদের পানীয়টি পান করতে দেখা যায়। 

এইচএকে/আরআর/এএ