জুলাই বিপ্লবের লিগ্যাসি শহীদ ফেলানীদের হাত ধরেই তৈরি : সাদিক কায়েম

২০১১ সালে সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে কার্যত পুরো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরের লড়াই-সংগ্রামে শহীদ ফেলানী ছিলেন এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের লিগ্যাসি তার মতো শহীদদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক হত্যার ১৫ বছর উপলক্ষ্যে ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘আধিপত্যবাদবিরোধী কবিতা ও গানের আসরে’ তিনি এসব কথা বলেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘শহীদ ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সেদিন হারিয়েছিল। ২০১১ সাল থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যবাদ কীভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা আর স্বাধীন ছিলাম না; বাংলাদেশের সবকিছুই ভারত থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো।’ তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ ভারতের একটি ‘সাবলেট কলোনি’র মতো ছিল, যেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে যে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা’ ছিল, সে ছিল একটা পুতুল সরকার এবং দিল্লি থেকেই সবকিছু পরিচালিত হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো একেকটা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পরিণত হয়েছিল এবং সেগুলোও দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো।
শহীদ ফেলানীর বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা কোনো কিছুর সঙ্গে আপস না করে গত ১৬ বছর ধরে বিচারের দাবিতে লড়াই ও প্রতিরোধ জারি রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধার প্রসঙ্গ টেনে ডাকসু ভিপি বলেন, ২০২৪ সালে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কোরআন পাঠের আসর করেছিলাম। তখন তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালকে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছিলেন, দিল্লির দালাল ও দূতাবাস থেকে চিঠি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যারা কোরআন পাঠ করেছিল, তাদের বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতির বাংলাদেশ। যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলমান, সেখানে কোরআন পাঠের আসর সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল– এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না।
এসএআর/বিআরইউ