মুন্সিগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

মুন্সিগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কয়েকজন নেতা। দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে এই সমাবেশ থেকে।
শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাবির শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশজুড়ে একটি পৈশাচিক তাণ্ডব শুরু হয়েছে। তারেক জিয়ার বাহিনী মিডিয়াকে ব্ল্যাকআউট করে দিয়ে দেশে দখলদারি, হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো মিডিয়া মুখ খুলছে না, প্রশাসনও কোনো কথা বলছে না। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে— মিডিয়া ব্ল্যাকআউট, প্রশাসন সোল্ড আউট। এভাবে যদি মিডিয়াকে ব্ল্যাকআউট করে এবং প্রশাসনকে সোল্ড আউট করে হাসিনার পথ অনুসরণ করা হয়, তাহলে হাসিনার যে পরিণতি হয়েছিল, সেই পরিণতি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি, ইনশাআল্লাহ।”
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি শুধুমাত্র বিএনপির প্রধানমন্ত্রী নন, সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠুন। বিরোধী মত প্রকাশের কারণে কাউকে ভিন্ন চোখে দেখা হবে না— আমরা সরকারের কাছে সেটাই প্রত্যাশা করি। আপনি যদি ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি ভিন্ন পথে হাঁটেন, তাহলে প্রতিহত করার সক্ষমতা আমাদের আছে।”
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভোটে অংশ নিতে বাড়িতে গিয়েছিল। অনেকে এখনো ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আশা করেছিলাম একটি সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ বিজয় উৎসব হবে। কিন্তু দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয় উদযাপনের ঘোষণার পরিবর্তে আমরা দেখেছি, অন্যের বাড়িতে জানাজা পড়ানোর মধ্য দিয়ে সেই বিজয়ের সূচনা হয়েছে।”
এসএআর/এনএফ