হাসপাতালে ফেলে যাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব পেলেন এসি ল্যান্ড

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫৭ পিএম


হাসপাতালে ফেলে যাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব পেলেন এসি ল্যান্ড

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ছেলে সন্তান জন্ম দিয়ে তাকে রেখে পালিয়ে যান এক মা। সেই নবজাতকের দায়িত্ব পেলেন নিঃসন্তান এক দম্পতি। তিনি এসি ল্যান্ড হিসেবে সিলেট বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। 

জানা গেছে, ১০ বছর বিবাহিত জীবনে ওই দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। চিকিৎসকরা ওই দম্পতিকে জানিয়েছেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের আর কোনো দিন সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বুধবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নবজাতককে ফেলে চলে যায় তার মা। এই ঘটনা নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন অনেকে। 

এদিকে শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়। সভায় ১৮ জন সদস্যের প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনকারী দম্পতিদের মধ্যে একজন দম্পতির হাতে শিশুটির দায়িত্বভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দু-একদিনের মধ্যেই শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দম্পতির হাতে হস্তান্তর করা হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক আরিফুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আনম আবুজর গিফারী, এনডিসি শাহেদ আরমান, কুষ্টিয়ার সমাজসেবা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মুরাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলা প্রশাসক শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত নবজাতক শিশুর কোনো আত্মীয়-স্বজনও খোঁজ নিতে হাসপাতালে আসেননি। শিশুটি বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আলী। 

রাজু আহমেদ/এসপি

Link copied