চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রবাসী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৫২ পিএম


চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রবাসী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মামলার আসামি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবাসী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল খালেক সরকার নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ধর্ষণের শিকার ওই নারী বীরগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

আব্দুল খালেক সরকার বীরগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলার সৈয়দপুর (কল্যানী) এলাকার মৃত তছলিম উদ্দীনের ছেলে।

মামলার এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর বাবার বাড়িতে অবস্থানের সময় ২০১৫ সালে ঈদ উপলক্ষে সরকারি চাল দেয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নেন চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার। 

ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানকার একটি পুরাতন ভবনে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন চেয়ারম্যান। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেন; সেই সঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে ওই নারীর পরিবারের সবাইকে মেরে লাশ গুম করে দেবেন বলে জানান চেয়ারম্যান। 

এভাবে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই নারীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন চেয়ারম্যান। 

এরপর ওই নারী কাজের জন্য সৌদি আরবে চলে যান। বিদেশে থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ওই নারীকে যৌন উত্তেজক কথাবার্তা বলতেন।

সম্প্রতি ওই নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরলে তার বাবা-মা একই উপজেলার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। দেশে ফেরত আসা এবং অন্য ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের খবর শুনে চেয়ারম্যান খালেক মোবাইল ফোনে ওই নারীকে হত্যার হুমকি দেন। পরে ভিডিওগুলো ফেরত দেয়ার কথা বলে দেখা করতে বলেন।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নোখাপাড়ায় চেয়ারম্যানের ইটভাটার পাশের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন। 

এ সময় ওই নারী প্রাণপন চেষ্টা করে মোবাইলের মেমোরি খুলে নেন। তখন চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানালে পরিবারের লোকজন তাকে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন এবং তিনি মামলা করেন। 

এ ব্যাপারে নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার বলেন, আমি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে পর পর দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে একটি মহল আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এটি সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তকাজ এবং আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চেয়ারম্যান খালেক সরকারের বিচারের দাবিতে পৌর শহরের বিজয় চত্বর এলাকায় বীরগঞ্জবাসীর ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এএম

Link copied