• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. সারাদেশ
  2. সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপ, ঝুঁকিতে জলজ জীবন-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধিসুনামগঞ্জ 
১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২৪
অ+
অ-
সুনামগঞ্জে নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপ, ঝুঁকিতে জলজ জীবন-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

নদীর পাড় কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, এটি প্রকৃতি ও জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে স্নিগ্ধতা আর সবুজের আলিঙ্গন ঘটে। কিন্তু সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নদী ও খালের পাড় যেন ময়লার ভাগাড়। এই পাড়ে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালির নোংরা আবর্জনা।

বিজ্ঞাপন

ফলে হারিয়েছে নদীর স্বচ্ছতা, তীরগুলোতে জমে আছে দুর্গন্ধ যুক্ত ময়লার স্তূপ। এই বর্জ্য নদীর জলজ প্রাণী ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। সুনামগঞ্জের পর্যটন ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বৈঠাখালি নৌকাঘাট থেকে শুরু করে দক্ষিণ বড়পাড়া, তেঘরিয়া, পুরানপাড়া, মড়লহাটি, সাহেববাড়ি ঘাট, উত্তর আরপিননগর, পশ্চিম বাজার, চাঁদনিঘাট, জগন্নাথবাড়ি, কাঁচাবাজার হয়ে নবীনগর পর্যন্ত নদীর তীর ময়লায় জর্জরিত। কোথাও ড্রেনের ময়লা সরাসরি নদীতে গিয়ে মিলছে, কোথাও নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে আবর্জনার ছোট ছোট স্তূপ। 

বিশেষ করে সাহেববাড়ি ঘাট ও চাঁদনিঘাটে দৃশ্য এতটাই করুণ যে, নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন হারিয়ে গেছে ময়লার স্তূপের আড়ালে। দুর্ভাগ্যবশত, এই চিত্র শুধু শহরের মানুষের জন্য নয়। দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওরে যাতায়াতের প্রধান নৌঘাট সাহেব বাড়ি ঘাটেও ময়লার স্তূপ দেখা যায়। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে শত শত পর্যটক এই ঘাট ব্যবহার করেন। তাদের চোখে পড়ে নদীর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা নোংরা আবর্জনা। এতে পর্যটন ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নদীর তীরের এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের ভোগান্তিও কম নয়। তেঘরিয়া-মড়লহাটি এলাকার বাসিন্দা মো. তাজউদ্দিন বলেন, নদীর পাড়ে কোথাও ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। পৌরসভার দেওয়া ড্রামগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে চলাফেরাই কষ্টকর।

চাঁদনিঘাটের দোকানদার দুলন আহমদ বলেন, মানুষ নির্বিঘ্নে ময়লা ফেলে দেয়। কোথায় ফেলছে কি ধরনের ময়লা ফেলছে এসব দেখে না। অনেক সময় পলিথিন ব্যাগে পচনশীল খাবার ফেলে দেয়। পরে পাখি এসব খাবার খাওয়ার সময় পালিথিন ছিড়ে ফেলে তখন বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন আর  দোকানে বসতেও পারি না।

বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফিজ ত্বাহা হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, আমরা পৌর কর দেই, কিন্তু পৌরসভার সব সুবিধা আমরা পাই না। নদীর পাড় ছাড়া আর কোথাও ময়লা ফেলার জায়গা নেই। আমাদের এলাকা অনেক বড়। আর এতে ডাস্টবিনের পরিমাণ খুব নগণ্য। আমাদের এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রাস্তায় পর্যাপ্ত  আলো নেই, আমাদে জীবন অনেক কঠিন।

বিজ্ঞাপন

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, মানুষকে সচেতন করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ড্রাম থাকলেও সেগুলো ময়লায় ভরে গেছে। শহরটা এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত। দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিও নিষ্ক্রিয়। এই ময়লার স্তূপ শুধু নদীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, বরং সুনামগঞ্জের মানুষের জীবনযাত্রা ও শহরের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নদী ও খালের এই হৃদয়বেদনাময় দৃশ্য যেন সতর্কবার্তা, যে এখনই প্রয়োজন জনসচেতনতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করব নদীর পাড়ের ময়লা অপসারণে। জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেখানে ডাস্টবিনের অভাব, সেখানে দ্রুত স্থাপন করা হবে। আশা করি দ্রুত সমস্যাটি সমাধান হবে।

তামিম রায়হান/আরকে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

পর্যটনজনদুর্ভোগ

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ঝড়ে মেঘনার চরে আটকা লঞ্চ, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৮০ যাত্রী

ঝড়ে মেঘনার চরে আটকা লঞ্চ, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৮০ যাত্রী

ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা

ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ময়মনসিংহের জনপ্রিয় স্পটগুলো

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ময়মনসিংহের জনপ্রিয় স্পটগুলো

কম খরচে পারফেক্ট ঈদ ট্যুর—গাজীপুরের ৫ স্পটেই মিলবে সব আনন্দ

কম খরচে পারফেক্ট ঈদ ট্যুর—গাজীপুরের ৫ স্পটেই মিলবে সব আনন্দ