ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হয়েছে টানা ৭ দিনের ছুটি। লম্বা ছুটির কারণে ঢাকাবাসী এবার বাড়ি ফিরছেন কয়েক ধাপে। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে অন্যবার যেমন ভোগান্তির চিন্তা থাকে, এবার সে চিন্তা না থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা রয়েছে, সেটি যোগ করেছে নতুন এক চিন্তা। সামনের দিনগুলো নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টিই এখন চিন্তায় ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল প্রাপ্তি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘসময় লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। এরমধ্যে বাড়তি চাপ আর যানজটে শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা চেপে বসেছে। আছে যানজটের আশঙ্কাও।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। গতবারের মতো এবারও ঈদের আগে চার দিন ছুটি থাকায় এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা স্বস্তির বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যানজটপ্রবণ ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অংশ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে গতকাল রাত পর্যন্ত যানজট ছিল না। পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ছিল একই চিত্র।
বিজ্ঞাপন
তবে জ্বালানি সংকটে এবারের ঈদে অন্যান্য বছরের তুলনায় গাড়ি চলছে কম। নতুন ভোগান্তি তৈরি করেছে জ্বালানি তেল। বাসমালিকরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছেন না। পেলেও দীর্ঘ লাইন ধরতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। এতে বাসের ট্রিপ কমছে। যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেছেন, গণপরিবহনে জ্বালানি তেলের সংকট নেই।
মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাবলিক পরিবহনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের চাপ সামলাতে পূর্বে ব্যবহৃত রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পাবলিক পরিবহনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে— মন্ত্রী এমন বক্তব্য দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। জানা গেছে, বড় কোম্পানির বাসগুলো তেল ম্যানেজ করতে পারলেও ছোট কোম্পানরি বাসগুলোর তেল পেতে ভুগতে হচ্ছে। যে কারণে অনেক মালিক কিছু শিডিউল বাস বন্ধ রাখছেন।
বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডের কাউন্টার মাস্টার মিনহাজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবার দশ-বারোটা বাস কমছে। তবুও তেলের টেনশন কমছে না। ২৭/২৮টা বাস ছেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। বাসের সিট খালি নেই। সড়কে যানজট নেই, যান চলাচল স্বাভাবিক। কিন্তু তেলের টেনশনে সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কায় আছি।
গতকাল ও আজ রাজধানীর কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীতে ঠাসা বাস টার্মিনাল, প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীর চাপ। যাত্রী ছাউনি ছাপিয়ে চায়ের দোকান, ফুটপাত, ফাঁকা সব জায়গায় লাগেজ, ব্যাগ নিয়ে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা। কাউন্টারের সামনে বাসের দুটি করে সারি। দেখেই যে কারো মনে হবে সামনে বুঝি তীব্র যানজট।
হেঁটে সামনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল পাম্পেও ঈদযাত্রার বাসের লাইন। দুই লাইন সামলাতে হিমশিম দশা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।
নাবিল পরিবহনের মাস্টার নুরুন্নবী বলেন, সড়কে যানজট নেই। যানচলাচল স্বাভাবিক। তবে ঢাকার ভেতরেই ঝামেলা। কারণ দূরপাল্লার বাসে তো পর্যাপ্ত তেল থাকা লাগবে। কারণ ফিরতি যাত্রা আছে। আবার এসে তেলের লাইনে তেলের জন্য অপেক্ষা। এসব তো ভোগান্তি নাকি। তেলের টেনশনটা যাচ্ছে না। কালকে তেল প্রাপ্তি স্বাভাবিক না হলে চাপ সামলানো কঠিন হবে। কারণ যাত্রী থাকবে কাউন্টারে আর বাস থেকে তেল পাম্পের লাইনে।
দেশ ট্রাভেলস্-এর ম্যানেজার (ঢাকা) এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিবহন কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মো. জানে আলম রাজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “দুদিন ধরে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তেলের ক্রাইসিস শঙ্কা তৈরি করছে যে সিডিউল শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যাবে কি না?
কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে গাবতলীমুখী ৮/১০টা পাম্প। এই পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন। যে কারণে ঢাকা ছাড়তেই ভুগতে হচ্ছে। অনেক পরিবহন তেল পাচ্ছে না, তেলের সংকটে অনেক পরিবহন গাড়ির সিডিউল কমিয়েছে। আমরাও কমিয়েছি। তবে আমরা সময় মতো বাস ছেড়ে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত স্বস্তির খবর মহাসড়কে যানজট নেই। তবুও শঙ্কা আছে। কাল কলকারখানা ছুটি হচ্ছে। সেই চাপ সামলানোর জন্য শুধু পর্যাপ্ত বাস শিডিউলে থাকলেই হবে না। সময় মতো পর্যাপ্ত জ্বালানিটাও তো লাগবে।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতরাতের শেষের দিকে একটু শিডিউল এলোমেলো হয়েছে। কারণ সময় মতো তেল নিয়ে কিছু বাস কাউন্টারে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেন, কাল বড় চাপ। গার্মেন্টস ছুটি হচ্ছে। তেলের টেনশনটা কমাতে পারলে শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হবে। নইলে ঝামেলা হবে। তবে স্বস্তির দিক হলো… রাত থেকে ট্রাক চলাচল বন্ধ হচ্ছে।
জেইউ/এনএফ