জুলাই যোদ্ধারা আর কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেবে না : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। আপনারা এক সময় মজলুম ছিলেন, এখন জালেম হওয়ার চেষ্টা করবেন না। মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করবেন না। ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এই প্রথাই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, বিগত সরকার দেশ ও জাতির ওপর প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিকে ‘হারাম’ মনে করি; আমরা তা করব না। আমরা নীতির রাজনীতি দিয়ে দেশ পরিচালনা করব। প্রচলিত আছে, ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ’; কিন্তু আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা কথা রাখব।”
কুমিল্লা বিভাগের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হতে হবে। যেহেতু আমরা ঘোষণা দিয়েছি, তাই এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ সরকার গঠন করলেও আমরা এটি বাস্তবায়নে বাধ্য করব। দেশে বিভাগ সংখ্যা বাড়লে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।” এ সময় তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দর সচল করা এবং স্থানীয় ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন।
দলের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচাইতে মজলুম দলের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং নিবন্ধন কেড়ে নিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্য কোনো দল এমন পরিস্থিতির শিকার হয়নি। সবচেয়ে বেশি গুমের শিকারও হয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীরা।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এত নির্যাতনের পরও আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। কোনো নাগরিক যেন মামলায় হয়রানির শিকার না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করব। যারা জুলুম করেছে, আখেরাতের ময়দানে তাদের বিচার হবে। আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রতিটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্যের উদয় হবে।
প্রশাসন ও মিডিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের আনুকূল্য করবেন না, জনগণের পক্ষে থাকুন। মিডিয়া হচ্ছে জাতির দর্পণ; আপনারা অন্যায়কে সমর্থন করবেন না, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং কল্যাণের পথে থাকুন।” তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে মেয়েরা সরকারি খরচে মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারবে।
বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও কুমিল্লা-৬ আসনের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ আজগর/এমএন