কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গিয়ে জামায়াতের ৫ নেতা আটক, অর্থদণ্ড

মাগুরার মহম্মদপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালে ভোটের প্রচারণা ও কম্বল বিতরণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমিরসহ পাঁচজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩২টি কম্বল জব্দ করা হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটককৃতদের মাগুরার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারকের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ (এমবি বাকের)-এর পক্ষে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুল, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল এবং কর্মী ওবায়দুল্লাহ বিন হাফিজার, হাবিবুল্লাহ ও এরশাদ মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তারা কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু করেন।
এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যাকে কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হলে হাসপাতালের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. শাহানুর জামান এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় ইউএনও’র নির্দেশে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আটককৃতদের মাগুরার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারকের আদালতে বিচার সম্পন্ন হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহা. শাহনুর জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম আটককৃতদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে মুক্তি দিয়েছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২ পিস কম্বল এতিম খানায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না।
তাছিন জামান/আরকে