বাউফলে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, ওসির প্রত্যাহার দাবিতে থানার সামনে অবস্থান

পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন জামায়াতের সমর্থকরা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বৌ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আমিনুল ইসলাম (৩৭), জুয়েল (৩৩), নয়ন (১৭), লিমা জাহান (২৫), শাহজালাল (২০), সুজন (২৬), শহিদুল বেপারী (২৭), হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫), আমিনুল মাতব্বর (৩০), সোহাগ (৩০), সাইফুল (৪০), জিসান (২৫), সজিব (১৭), রোজিনা বেগম (৩০), দেলোয়ার গাজী (৫৮), জামাল মৃধা (২২), মো. ওহাব হাওলাদার (৪২), মো. শামীম হোসেন (২৮), মো. আলাল মিয়াসহ (৪০) অন্তত ২৫ জন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জামায়াতের কয়েকজন কর্মী চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে প্রচারণার উদ্দেশে গেলে বিএনপির সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে আসনটির জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দাবি করেন, চন্দ্রদ্বীপে শহীদুল আলম তালুকদারের সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ মারাত্মক আহত হয়েছেন। থানার সামনে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছে। ওসি প্রত্যাহার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে।
এ সময় তিনি তার নেতাকর্মীদের থানার সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আসনটির বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে ৫০ জন আহত হওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জামায়াতের হামলায় আমাদের বিএনপির তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, লিখিতভাবে এখনও জানানো হয়নি। নেতাকর্মীদের শান্ত রাখার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিবিরের সন্ত্রাসীরা এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
জামায়াত কর্মীদের থানার সামনে অবস্থানের বিষয়ে জানতে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, আমি একটু ঝামেলার মধ্যে আছি, পরে ফোন দেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও ওসির পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগানে বাউফল থানার সামনে সড়কে অবস্থান করছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে