নারীদের ওপর হামলা ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জামায়াতের

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থতা, নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং প্রশাসনের একপেশে আচরণের অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও এখনো মাঠের পরিস্থিতিতে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ ও সিনিয়র সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।
এহসান মাহবুব জুবায়ের বলেন, সারাদেশে আমাদের নির্বাচনী অফিসগুলোতে পুলিশ রেইড করছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে, যেখানে আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন, সেখানে বারবার সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ওপর হামলা হয়েছে এবং ওসির ভূমিকা চরম পক্ষপাতদুষ্ট। ওই ওসি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের অফিসে রেইড করছেন। অনতিবিলম্বে বাউফলের ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানান জুবায়ের।
নারীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের (বা অন্য বিরোধী পক্ষ) প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হঠাৎ বলা হচ্ছে জামায়াত নাকি লক্ষ লক্ষ বোরকা বানাচ্ছে। এটি একটি কাল্পনিক নাটক। যারা পর্দা করেন তাদের মনে ভয় ঢোকানোর জন্য এবং নারী ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমানের একটি বিতর্কিত টুইট বার্তা নিয়ে ১১টি নারী সংগঠনের নেত্রীরা জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জুবায়ের বলেন, আমিরে জামাতের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভাইরাস পাঠিয়ে এটি করা হয়েছে। যা ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে এবং সেই কর্মকর্তা গ্রেপ্তারও হয়েছেন। মূলত যারা নারীদের অসম্মান করে, তারাই এই চক্রান্তটি করেছে। আমরা নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় বিশ্বাসী।
জামায়াত নেতা বলেন, পাবনায় আমাদের জেলা আমিরের ওপর হামলা হয়েছে, মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ একপেশে আচরণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু বা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা ইসিকে বলেছি সাংবাদিকদের অবাধ চলাফেরা এবং আমাদের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
এসআর/জেডএস