অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িচালকের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যখন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই, ঠিক তখনই এক অসহায় নাগরিক মানবিক সহায়তার আশায় হাজির হয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার দরজায়। আর সেখানেই ফুটে ওঠে একজন প্রশাসকের মানবিক মুখ।
কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত সেতু কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী গাড়িচালক নুরুজ্জামান মাতুব্বর। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয় নগর সরদার কান্দির গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত ২৪ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় তার সেমি-পাকা বসতঘর। আগুনে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তার জীবনের একমাত্র সম্বল।
দরিদ্র নুরুজ্জামানই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ, যার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে এমনিতেই বিপর্যস্ত ছিল পরিবারটি। তার ওপর ঘর পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে সাহায্য চেয়েও যখন হতাশা ছাড়া কিছুই জোটেনি, তখন শেষ ভরসা হিসেবে তিনি ছুটে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে—আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে।
নির্বাচনী ব্যস্ততায় সময়ের অভাব থাকলেও একজন নাগরিক মানবিক সাহায্য চেয়ে এসেছেন—এ খবর শুনেই নুরুজ্জামানকে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের কক্ষে ডেকে নেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। সবকিছু শুনে তাৎক্ষণিকভাবে নুরুজ্জামানকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আবেগাপ্লুত নুরুজ্জামান বলেন, আমি জীবনে এ রকম মানুষ পাই নাই। ডিসি স্যারের ব্যবহার খুবই ভালো। কথা বলার ধরণ মন ছুয়ে গেছে। নির্বাচনের মতো এত বড় কাজে উনি প্রচণ্ড ব্যস্ত, তবুও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন।
এমএএস