কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে ৯০ বছরের রমেশ, বললেন, ‘এটাই হয়তো শেষ ভোট’

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনেই। আজ জেলা শহরের বড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে এক বিরল ও আবেগঘন দৃশ্য। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, হাঁটতে অক্ষম ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ রমেশ চন্দ্র এসেছেন ভোট দিতে। নিজের পায়ে চলার শক্তি নেই, নাতির কোলে চড়ে বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।
ভোট দেওয়া শেষে রমেশ চন্দ্রের চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, শরীর তো আর চলে না। পা দুটোর জোর কবেই ফুরিয়ে গেছে, কিন্তু নাগরিক দায়িত্ব তো পালন করতে হবে। তাই নাতিকে বললাম, আমাকে নিয়ে চল। আজ অনেক দিন পর এমন শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কোনো ভয় নেই, বিশৃঙ্খলা নেই। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট। পছন্দের মানুষকে ভোটটা দিয়ে যেতে পেরে শান্তি পাচ্ছি।
আজ সকালে একই কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের প্রার্থী আবু তাহের। রমেশ চন্দ্রের মতো অনেক প্রবীণ ও নারী ভোটারকে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নারী ভোটার রয়েছেন। তিনটি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। স্থানীয়দের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে। তবে লালমনিরহাট-২ আসনে জনতা দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামালের প্রার্থিতা বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। এবার প্রশাসন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে।
জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এনটি