আঙিনায় স্বপ্নের বাগান, ২৬ বছর বাজারমুখী নন পল্লব

নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙা এলাকায় এক টুকরো সবুজ আঙিনা যেন হয়ে উঠেছে স্বনির্ভরতার প্রতীক। সেখানে ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে বিষমুক্ত ফল ও শাক-সবজির বাগান। উদ্যোক্তা মো. পল্লবের হাত ধরে এই বাগান এখন শুধু পরিবারের পুষ্টির জোগানই নয়, আশপাশের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার গল্প।
২০০১ সালে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর ভাবনা থেকেই শুরু পল্লবের এই উদ্যোগ। ধীরে ধীরে নিজের শ্রম, সময় আর যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় ফল ও সবজির বাগান। রাসায়নিক সার বা ক্ষতিকর কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদই তার মূল লক্ষ্য।
পল্লব বলেন, সুস্থ থাকতে হলে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। তাই নিজেরাই উৎপাদন করছি বিষমুক্ত শাক-সবজি ও ফল। পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই খাবার প্রস্তুত করি।
বাগানে রয়েছে নানা ধরনের শাক-সবজি— বিটরুট, গাজর, বালিয়া শাক, ডাটা শাক, বাঁধাকপি, থানকুনি, ধনেপাতা, টমেটো, চুইঝাল, ওলকপি, বেগুন, পেঁপে, পুদিনা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, পালংশাক, কাটানোটে, পোড়ানোটে, মূলা, রেড ক্যাবেজ, ফুলকপি, সিম, বিভিন্ন জাতের কচু, পুঁইশাক, শসা, মরিচ ও ক্যাপসিকাম।
ঋতুভেদে বদলায় ফসলের ধরন। প্রতিটি মৌসুমেই কিছু না কিছু সবজি পাওয়া যায় তার বাগান থেকে। শুধু সবজি নয়, ফলের দিক থেকেও সমৃদ্ধ এই আঙিনা। রয়েছে মালবেরি, রামবুটান, গোলাপজাম, কলা, পেয়ারা, আম, আপেলকুল, ঝাড়লেবু, বাতাবি লেবুসহ নানা ফলগাছ। পাশাপাশি দারুচিনি, তেজপাতা ও এলাচের মতো মসলাজাতীয় গাছও রয়েছে।
পল্লব জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি বাজার থেকে কোনো শাক-সবজি কেনেন না। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপহার দেন।
তিনি বলেন, যাদের বাড়ির আঙিনায় সামান্য জায়গা আছে কিংবা ছাদ আছে, তারা চাইলে সহজেই বিষমুক্ত সবজি বাগান করতে পারেন। এতে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত হবে, খরচও কমবে।
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এ ধরনের পারিবারিক পুষ্টি বাগান খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ। সামান্য জায়গা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষা হয়।
মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ