নরসিংদীতে অটোরিকশার দৌরাত্মে বাড়ছে জনভোগান্তি ও দুর্ঘটনা

নরসিংদী শহরে অটোরিকশা ও মিশুকসহ বিভিন্ন ত্রিচক্রযানের দৌরাত্ম দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একদিকে অল্প দূরত্বে যাতায়াত সহজ হলেও অন্যদিকে তীব্র যানজট, দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।
প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশার দীর্ঘ সারি ও এলোমেলো চলাচলের কারণে স্বাভাবিক যানচলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে। পৌর এলাকার তুলনামূলক ছোট পরিসরে যেখানে অল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে বাস্তবে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা ও মিশুকচালকদের বড় একটি অংশের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। চালানোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যেকোনো স্থান থেকে হঠাৎ যাত্রী ওঠানো, সাইড লাইট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাই যেন অনেক চালকের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আচরণ দেখা যায়। এতে পেছনে থাকা মোটরসাইকেল, সাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য অটোরিকশাচালকের দায় থাকলেও উল্টো মোটরসাইকেল আরোহীদের জরিমানা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী সিহাব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা কলেজে সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে আধা ঘণ্টা লেগে যায়। তিন চাকার অটো-মিশুক এখন নরসিংদীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

তার সঙ্গে থাকা রাকিব বলেন, আমাদের কাজের সময় ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। আধা ঘণ্টার কাজ করতে এক থেকে দুই ঘণ্টা লাগছে। অপরিকল্পিত অটোগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
কলেজ শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, শহরে প্রাইভেট অটো ও মিশুকের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ইনকামের সহজ উপায় হিসেবে শহরের বাইরে থেকেও বিপুল সংখ্যক অটো আসছে। এতে জনভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নরসিংদী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম নাইম হাসান শুভ বলেন, নরসিংদীতে অটোরিকশা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এটি একটি সীমার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। কয়েক মাস আগে অটো-মিশুক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালু ছিল। যেগুলো অনিবন্ধিত রয়েছে, সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, শহরের জেলখানা মোড়, আরশিনগর ও মালাকার রোডে নির্দিষ্ট সময়ে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে আমরা ২০ জন ট্রাফিক কর্মী নিয়োগ করেছি। দীর্ঘদিনের বদঅভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি শিগগিরই এর ফল দেখা যাবে।
খেটে খাওয়া অটোরিকশা ও মিশুকচালকদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনলে দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আরকে