নোয়াখালীতে অবৈধ বালুবাহী ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ জনকে জরিমানা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ওভারলোডেড লাইসেন্সবিহীন ট্রাক চালানোর দায়ে ৯ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বালুবাহী ও বালু নিতে আসা ড্রাম ট্রাক এবং ওভারলোডেড ট্রাক চালানোর অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী মহিউদ্দিন, নূর হোসেন, ইসমাইল ও সাজু নামের চার ট্রাকচালককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্রাক চালানোর দায়ে মাইনুদ্দীন নামের আরেক চালককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই আইনে এমদাদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, রুপম ও সাকিব নামের চার ড্রাম ট্রাক চালককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে একজন অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মুছাপুর ও চর এলাহী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নৌকা ও বাল্কহেডের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে উপজেলার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদীর তীর ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে বালু বহনের কারণে যেমন রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। তাই অনুমোদনহীন বালু ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হাসিব আল আমিন/এসএইচএ