ফেনীতে প্রথম পর্যায়ে খনন-পুনঃখনন হবে ৭টি খাল

দেশজুড়ে নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফেনীতে প্রথমপর্যায়ে ৭টি খাল খনন-পুনঃখননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৯ কিলোমিটার। তারমধ্যে সদর উপজেলায় ২টি, দাগনভূঞায় ২টি, ফুলগাজীতে ২টি ও সোনাগাজী উপজেলায় ১টি খাল খনন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সদর উপজেলায় দুইটি খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে দাউদপুল খালের টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এলাকা থেকে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং পাগলিছড়া খালের পাঠানবাড়ি এলাকা থেকে দাউদপুল হয়ে কালিদাস পাহালিয়া নদী পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার খনন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
দাগনভূঞা উপজেলায় দুটি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের ২ কিলোমিটার এবং জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া বাজার থেকে নেয়াজপুর খালের ২ কিলোমিটার খনন করা হবে।
ফুলগাজী উপজেলায়ও দুটি খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে নোয়াপুর এলাকার গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং তারালিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত আরও ২ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সোনাগাজী উপজেলার দাঙ্গাই খালের ২২ কিলোমিটার খনন করা হবে। তবে প্রথম পর্যায়ের তালিকায় জেলার পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার কোনো খাল অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে খাল খনন উদ্বোধন করবেন তারই অংশ হিসেবে দাগনভূঞার দাদনার খালও উদ্বোধন করা হবে। তবে এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনকৃত খালের অংশ নয়। এটি আলাদা একটি প্রকল্পের আওতাধীন। আমরা আগে এটি খননের বরাদ্দ চেয়েছিলাম, এখন সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে কাজ শুরু হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় ফেনীর ছয় উপজেলার ১২টি খাল অগ্রাধিকার দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি খাল অনুমোদন হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৪৯ কিলোমিটার। ঈদের পর এসব খালের খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। বরাদ্দ পেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পর ফেনীতে সোমবার (১৬ মার্চ) জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দাদনার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তারেক চৌধুরী/এএমকে