তামাকের মাঠে স্ট্রবেরি চাষ, খুলেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষের জন্য পরিচিত। সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে দিয়ে এবার নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলেছেন স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ কাইছার। তামাকের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার মিনিবাজার এলাকার বাসিন্দা কাইছার নিজের বাড়ির অদূরে মাতামুহুরী নদীর চরে প্রায় ২৫ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন স্ট্রবেরির খেত। আগে এই জমির বেশিরভাগই তামাক চাষে ব্যবহৃত হলেও এখন সেখানে সারি সারি গাছে ঝুলছে টকটকে লাল স্ট্রবেরি। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল ফলের এই দৃশ্য অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ছে।
চলতি মৌসুমে রাজশাহীর একটি নার্সারি থেকে তিন হাজার স্ট্রবেরি চারা সংগ্রহ করেন কাইছার। গত বছরের ১৭ নভেম্বর জমি প্রস্তুত করে ‘ফেস্টিভ্যাল’ জাতের এসব চারা রোপণ করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই গাছে ফুল আসে। এরপর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ফল সংগ্রহ।

কৃষক কাইছার বলেন, শুরুতে অনেকেই এই এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমি মনে করেছি সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এখন ফল দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
স্ট্রবেরি চাষে জমি প্রস্তুত, চারা সংগ্রহ, সার, সেচ ও পরিচর্যাসহ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন। এতে খরচ উঠে গিয়ে ইতোমধ্যে লাভের মুখও দেখেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রির আশা করছেন কাইছার।
প্রতিদিন তার খেত থেকে গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব ফল চকরিয়া বাজার ছাড়াও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন সুপারশপ, ফলের দোকান ও পাইকারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো।
কাইছার জানান, স্ট্রবেরি চাষে তার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০০৭ সালে তিনি প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এই ফলের চাষ শুরু করেছিলেন। তবে সে সময় বাজারে চাহিদা কম থাকায় দুই বছর পর তা বন্ধ করতে হয়। পরে বাজারে চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২২ সালে আবার নতুন করে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন

তার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন স্ট্রবেরি চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকে তামাকের বিকল্প হিসেবে এই ফল চাষের পরিকল্পনাও করছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তামাকের বিকল্প লাভজনক ফসল হিসেবে স্ট্রবেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকাতেও এই ফলের ভালো ফলন সম্ভব।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, তামাক চাষ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সেই জায়গায় স্ট্রবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফল চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধবও।
কৃষক কাইছারের এ উদ্যোগ এলাকায় বিকল্প ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তার সফলতা অন্য কৃষকদেরও তামাকের বদলে লাভজনক ফল চাষে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এএমকে