বাগেরহাটে ষাটগম্বুজ মসজিদ ছাড়াও ঘুরতে পারেন যেসব দর্শনীয় স্থান

ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক, সেমাই আর পারিবারিক আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ নয়, এই আনন্দকে ছড়িয়ে দেওয়া যায় ভ্রমণের রঙেও। ব্যস্ততার শহর ছেড়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে যদি একটু প্রকৃতির কাছে, ইতিহাসের ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে চান, তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা বাগেরহাট। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া স্থাপনা, শত শত বছরের পুরনো নিদর্শন আর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশেলে এই জেলা যেন এক জীবন্ত ইতিহাসের পাতা।
বিজ্ঞাপন
অনেকেই বাগেরহাট বলতেই শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদের কথাই ভাবেন। কিন্তু এই জেলার সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যের ভাণ্ডার এতটাই বিস্তৃত যে, একটি জায়গায় ঘুরেই তা শেষ করা সম্ভব নয়। সুন্দরবনের সবুজ রহস্য থেকে শুরু করে খানজাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা, প্রাচীন মসজিদ, দিঘি, মঠ সব মিলিয়ে বাগেরহাট হতে পারে ঈদের ছুটিতে ঘোরাঘুরির আদর্শ গন্তব্য।
বিশ্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় বাগেরহাট
বাগেরহাটের গর্ব দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এবং ষাটগম্বুজ মসজিদ। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরবন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। করমজল, দুবলার চর কিংবা আলীবান্দা প্রতিটি জায়গাই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতায় ভরপুর।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে প্রায় ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি একটি স্থাপত্য বিস্ময়। ৮১টি গম্বুজ, টেরাকোটার কারুকাজ আর চারপাশের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে রাখে। একই ক্যাম্পাসে রয়েছে বাগেরহাট জাদুঘর, যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
ঐতিহ্যের পথে পথে
ষাটগম্বুজের পাশেই রয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট সিঙ্গাইর মসজিদ। এছাড়া চুনখোলা, বিবি বেগুনি, রেজা খোদা এমন অসংখ্য প্রাচীন মসজিদ ছড়িয়ে রয়েছে পুরো জেলায়, যা সেই সময়কার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন বহন করে।
বিজ্ঞাপন

হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার ও সংলগ্ন খানজালী দিঘি দর্শনার্থীদের জন্য এক প্রশান্তির জায়গা। দিঘির জলে ভেসে বেড়ানো কুমির আর রঙিন মাছ দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। পাশেই রয়েছে নয় গম্বুজ মসজিদ, যা ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অনন্য সংমিশ্রণ।
ব্যতিক্রমী দর্শনীয় স্থান
যাত্রাপুর ইউনিয়নে কুরআনের রিহাল বজ্রপাতে মৃত একটি গাছকে শৈল্পিকভাবে রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছে এই অনন্য নিদর্শন। শিল্প ও ধর্মীয় অনুভূতির এমন সমন্বয় সচরাচর দেখা যায় না।

বারুইপাড়ার অযুদ্ধার মঠ ১৬ শতকের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক নিদর্শন। পোড়ামাটির অলঙ্করণ আর ইটের গাঁথুনিতে তৈরি এই মঠ দর্শনার্থীদের ইতিহাসের গভীরে নিয়ে যায়।
বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনাই নয়, বাগেরহাটে রয়েছে আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থাও। চুলকাঠির চন্দ্রমহল, বারাকপুর ও দশানী পার্কে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন রাইডস ও বিনোদনের আয়োজন।

শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে ওঠা রিভারভিউ ইকোপার্ক আপনাকে দেবে সমুদ্রসৈকতের মতো অনুভূতি। নদীর পাড়ে বসে গল্প করা, ছবি তোলা কিংবা সূর্যাস্ত উপভোগ সবকিছুই এখানে বিশেষ হয়ে ওঠে।
আরও যেসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন
মোংলা বন্দর, দড়াটানা সেতু, ফকিরহাটের জোড়া শিব মন্দির, লাউপালার রথ মন্দির, মুনিগঞ্জ সেতু কিংবা ডিসি ইকোপার্ক প্রতিটি স্থানই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আলাদা আকর্ষণ বহন করে।
ঈদের ছুটিতে যদি কাছাকাছি কোথাও স্বল্প খরচে ইতিহাস, প্রকৃতি আর বিনোদনের মিশেল খুঁজে থাকেন, তবে বাগেরহাট হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো একটি দিন এখানে হয়ে উঠতে পারে স্মৃতিময়—যেখানে প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে আছে গল্প, ইতিহাস আর প্রকৃতির মায়া।
এসএইচএ