ঈদ, স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়নায় বরিশাল থেকে ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি লঞ্চের কাউন্টারের সামনে ‘কেবিন খালি নেই’ লেখা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকেল থেকেই ডেকের জায়গাও দখল করে নিয়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে কর্মজীবীদের। এ কারণে শুক্রবার ও আজ শনিবার ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে চোখে পড়ার মতো ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিলাসবহুল কেবিনগুলো ঈদের অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। বর্তমানে ডেকে জায়গা পাওয়ার জন্য চলছে প্রতিযোগিতা।
শনিবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ৯টি যাত্রীবোঝাই লঞ্চ ছেড়ে যাবে। লঞ্চগুলো হলো- এম খান-৭, সুরভী-৭, সুন্দরবন-১৫, সুন্দরবন-১৬, মানামী, পারাবত-১১, পারাবত-১২, পারাবত-১৮ এবং শুভরাজ-৯।
দুপুরের পর থেকেই ট্রলার, থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে যাত্রীরা বরিশাল নদীবন্দরে আসতে শুরু করেন। ঘাটে পৌঁছেই যে যার মতো লঞ্চের ডেকে জায়গা দখল করে বসে পড়েন।
বিজ্ঞাপন

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত ৯টি লঞ্চ ছাড়াও আরও দুটি লঞ্চ ভায়া বরিশাল হয়ে ঢাকায় যাবে। এরই মধ্যে অধিকাংশ লঞ্চের ডেক যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীবন্দরে যেন মানুষের ঢল নামে। লঞ্চের ডেক, কেবিনের সামনে, , দ্বিতীয় তলা এমনকি ছাদেও যাত্রীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার মোহাম্মদ বাপ্পী জানান, ঈদের পর বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে—এমন পূর্বাভাস ছিল। তাই এই তিন দিনের কেবিন ঈদের প্রায় ১০ দিন আগেই বুক হয়ে যায়। তিনি আশা করেন, রোববার থেকে যাত্রীর চাপ কমে যাবে।
বিজ্ঞাপন
সুন্দরবন লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার শাকিল হাওলাদার বলেন, ঈদের আগেই শুক্রবার ও শনিবারের কেবিনের জন্য প্রচণ্ড চাপ ছিল। আগে আসলে আগে ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হয়েছে। কোনো দালাল বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির সুযোগ নেই। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ারও অনুমতি নেই।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কেবিন না পাওয়া গেলেও ঘাট এলাকায় কিছু লঞ্চকর্মী যাত্রীদের সিঙ্গেল বা ডাবল কেবিনের প্রস্তাব দিচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য নদীবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে কোনো লঞ্চকেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বন্দর ত্যাগ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রয়েছে।
এসএইচএ
