বিজ্ঞাপন

বরগুনায় গোডাউন থেকে ১৯০ ব্যারেল  ডিজেল উদ্ধার

অ+
অ-
বরগুনায় গোডাউন থেকে ১৯০ ব্যারেল  ডিজেল উদ্ধার

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গাজী স্টোর নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থেকে ১৯২ ব্যারেল ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় জ্বালানি তেল মজুত রেখে বিক্রি না করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও পদ্ম অয়েল কোম্পানির এজেন্ট মো. গাজী আব্দুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ইতলা নামক এলাকার বিএফডিসি রোড সংলগ্ন গাজী স্টোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।  

পাথরঘাটা উপজেলায় সমুদ্রগামী বিভিন্ন ট্রলারে ব্যারেল প্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি করছিলেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসয়ীরা। এছাড়াও অতিরিক্ত মূল্য না দিলে ডিজেল নেই বলেও দাবি করতেন তারা। 

স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ‘বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে ডিজেল, সমুদ্রগামী ট্রলার নিয়ে জেলেদের ভোগান্তি’ শিরোনামে শনিবার দুপুরে ঢাকা পোস্টে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর ডিজেল মজুত এবং অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি বন্ধের লক্ষে গোপনে অনুসন্ধান শুরু করে প্রশাসন ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা। 

বিজ্ঞাপন

পরে এনএসআই সদস্যদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা উপজেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাট সংলগ্ন গাজী স্টোর নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে থাকা ১৯২ ব্যারেল আনুমানিক ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির এজেন্ট মো. গাজী আব্দুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত ডিজেল স্থানীয় জেলেদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট শুরুর পর থেকেই পাথরঘাটায় তেল মজুতের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পাথরঘাটায় কয়েক হাজার জেলে ও শত শত মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। এসব ট্রলারের আকার অনুযায়ী ২ থেকে ২০ ব্যারেল পর্যন্ত ডিজেল দরকার হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও ব্যারেল প্রতি ২ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করা হতো। আজকের অভিযানের পর তেল উদ্ধারে জেলেরা উপকৃত হয়েছে।  

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ডিজেল মজুত রাখার দায়ে ব্যবসায়ী মো. গাজী আব্দুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধারকৃত ডিজেলে স্থানীয় জেলেদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পাথরঘাটায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

বিজ্ঞাপন

আব্দুল আলীম/আরএআর