বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামে দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ, ক্ষতি ৮ কোটি টাকা

অ+
অ-
কুড়িগ্রামে দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ, ক্ষতি ৮ কোটি টাকা

কুড়িগ্রামের তিস্তা চরাঞ্চলে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলায় প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ চাষীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের হাহাকার।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াসামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৭২) বলেন, ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ লাগিয়েছি। এখনও খরচই ওঠেনি। তার ওপর শিলা আর বৃষ্টিতে অনেক মরিচ গাছ পচে গেছে। তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম (৫০) বলেন, আশা ছিল, মরিচ বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে অনেক কিছু করব। কিন্তু বাজারে মরিচের দাম কম। এমন দাম থাকলে আমরা বড় লোকসানে পড়ব।

বিজ্ঞাপন

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এবার ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক কৃষক মরিচ তুলে ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক কৃষক একসঙ্গে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে আনায় হঠাৎ দরপতন ঘটেছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন নাজার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচ ও বাদামসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ