বিজ্ঞাপন

ডিভোর্স দেওয়ায় গৃহবধূর ওপর ব্লেড দিয়ে হামলা

অ+
অ-
ডিভোর্স দেওয়ায় গৃহবধূর ওপর ব্লেড দিয়ে হামলা

নড়াইলে মিতু খানম (২৬) নামের এক গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী নুরে আলম মল্লিকের বিরুদ্ধে। কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাউলি ইউনিয়নের তেলিডাংগা গ্রামে শনিবার ( এপ্রিল) দিবাগত রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে লোহাগড়া উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আহত মিতু খানম কালিয়া উপজেলার তেলিডাঙ্গা গ্রামের মৃত. ওবায়দুল শেখের মেয়ে। মিতুর সাবেক স্বামী নূরে আলম মল্লিক একই উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের মৃত টুকু মল্লিকের ছেলে।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস বলেন, রাত ২টার দিকে মিতু খানম নামের এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। তার চোখের কোনা, মুখের বিভিন্ন অংশ, নাক, থুতনিসহ বাম হাতের তালুতে ব্লেড জাতীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রায় অর্ধশত সেলাইয়ের মাধ্যমে ক্ষত স্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম হই। রোগী এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে মিতু ও নূরে আলমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। নূরে আলম জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো ধরনের কাজ-কর্মের সাঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অভাবের সংসারে তাদের মধ্যে এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতনের কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিতু তার স্বামী নূরে আলমকে ডিভোর্স দেন। পরে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে যান মিতু। এ সময় তার ওপর হামলা করে নূরে আলম। ব্লেডের এলোপাতাড়ি টানে মুখমণ্ডলের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। মিতুর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে আসলে নূরে আলম পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা।

বিজ্ঞাপন

আহত মিতু বেগম বলেন, গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে নুরে আলম পেছন থেকে ঝাপটে ধরে ব্লেড দিয়ে আমার চোখে-মুখে ও গলায় আঘাত করতে করতে বলে, তোকে জীবনের মতো শেষ করে দেব। তখন আমি চিৎকার দিলে আমার ভাই মহিদুল এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আমি নূরে আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আহত মিতুর ভাই মহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বোন মিতুকে দেড় মাস আগে নুরে আলমের সঙ্গে সামাজিকভাবে তালাক প্রদান করা হয়। নুরে আলম আমার বোন মিতুকে হত্যার উদ্দেশে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে। নুরে আলম একজন নেশাগ্রস্ত লোক এবং মাদক কারবারি। আমরা ওই লম্পট নুরে আলমের যথাযত বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নূরে আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

নড়াগাতী থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএমকে

বিজ্ঞাপন