গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঋণের চাপে হাসপাতালে স্ত্রী ও যমজ সন্তানকে রেখে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কালিয়াকৈর পৌরসভার গোয়ালবাথান এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের নাম আলাল উদ্দিন (৪৫)। তিনি কালিয়াকৈর পৌরসভার গোয়ালবাথান গ্রামের মৃত শবদুল ইসলামের ছেলে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, এক বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার জন্য আলালের চাকরি চলে যায়। এতে পরিবারটি অভাব-অনাটনে পড়ে। এদিকে বিয়ের প্রায় ৫ বছর পর রোববার আলালের স্ত্রী সুমি বেগম সিজারে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। দুই সন্তান দেখে রাতেই হাসপাতাল থেকে আলাল উদ্দিন বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাতে নিজ ঘরে গলায় রশি পেচিয়ে ফ্যানের ঝুঁলে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন অনেক ডাকাডাকির পর কোনো আওয়াজ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে আলালের মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আলালের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন চাকরি না থাকায় আলাল অনেকটা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তার দুই সন্তান জন্মের খবর পেয়ে অনেক হতাশ হয়ে যায়। হাসপাতালের খরচ, সন্তানের খরচ কীভাবে চালাবে তা নিয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। যমজ দুই কন্যসন্তান ও স্ত্রী হাসপাতালে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের দেখাশোনা চলছে।
কালিয়াকৈর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আশিকুর রহমান/এএমকে
