একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদারের (২৭) স্ত্রী লামিয়া আক্তার (২৩)।
বিজ্ঞাপন
ছয় মাস আগে মা লামিয়ার কোলজুড়ে জন্ম নেয় তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। এতে পরিবারজুড়ে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে নবজাতকদের লালন-পালন, বিশেষ করে দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের বাবা সোহেল। সন্তান জন্মের পর থেকে লামিয়া আক্তার শিশুদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে লামিয়ার বাবা ফারুক হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ শিশুর সেবাযত্নে ব্যস্ত পুরো পরিবার। ভোরের আগেই শুরু হয় শিশুদের পরিচর্যা-খাওয়ানো, গোসল করানো ও কাপড় বদলাতে গিয়ে একপ্রকার দিশাহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা। রাতেও শিশুদের দেখাশোনায় নির্ঘুম সময় কাটান মা।
মা লামিয়া আক্তার বলেন, আল্লাহ আমাকে পাঁচটা সন্তান দিয়েছেন, আমি শুধু চাই ওরা সুস্থ থাকুক। সন্তানদের সেবাযত্ন করে সুস্থ্য রাখার জন্য আমার ঘুম-নিদ্রা কিছুই নাই। ওদের বাবার অল্প আয় দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে চলতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়।
বিজ্ঞাপন
শিশুদের নানি শাহনাজ বেগম (৪৫) বলেন, আমরা খুবই খুশি আল্লাহ আমাদের পাঁচটা নাতি-নাতনি দিয়েছেন। কিন্তু জন্মের পর থেকেই খুব কষ্ট হচ্ছে। ওদের বাবার ছোট দোকান, এ আয় দিয়ে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। ওরা এখন আমাদের বাড়িতেই থাকে। আমার স্বামীও দিনমজুর, ইটভাটায় কাজ করেন। আমাদের পাশে যদি কেউ দাঁড়ায় তাহলে কষ্ট দূর হত।
শিশুদের বাবা মো. সোহেল হাওলাদার স্থানীয় বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তার স্বল্প আয়ে ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোহেল বলেন, প্রতিদিন শিশুদের পেছনে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। বর্তমানে ১০ সদস্যের পরিবারে শিশুদের দুধের টাকা যোগাতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। রাতে টেনশনে ঘুম হয় না। সমাজের বিত্তবানরা আমাদের পাশে দাঁড়ালে আমার কষ্ট দূর হতো। সরকারের কাছেও আমার আবেদন তারা যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ুন কবির জানান, সমাজসেবা থেকে সরাসরি এ বিষয়ে কোনো সহায়তা না থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের একটি তহবিল রয়েছে। ওই তহবিল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয়ে অনুদান দেওয়া হয়। পরিবারটি আবেদন করলে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন লামিয়া আক্তার। নবজাতকদের মধ্যে তিন ছেলে মো. হাসান, মো. হোসাইন ও মো. মোয়াজ্জিন এবং দুই মেয়ে মোসা. লামিবা ও মোসা. উমামা।
পাঁচ শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা। পাঁচ সন্তানের জনক মো. সোহেল হাওলাদারের সঙ্গে ০১৭৮৩৮১৬৯৮০- এই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
সোহাইব মাকসুদ/আরএআর
