মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাব্বির হোসেন (২৫) নামে এক মাদরাসা শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর লজ্জা ও সামাজিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
নিহত সাব্বির হোসেন (২৫) গাংনী উপজেলার তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি একই উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মৃত কাফিরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাদ্রাসার এক শিশুকে বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তা মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়।
এরপর থেকেই সাব্বির হোসেন আত্মগোপনে ছিলেন। কয়েকদিন নানার বাড়িতে অবস্থান করার পর সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে তিনি নানার বাড়িতে ঘাস পোড়ানো বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সম্রাট বিশ্বাস জানান, অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এসএইচএ
