মামুন হত্যাকাণ্ডে ২ শ্যুটারসহ ৫ জন রিমান্ডে

পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুই শ্যুটারসহ পাঁচ আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ নভেম্বর) অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— শ্যুটার মো. ফারুক হোসেন ফয়সাল, শ্যুটার রবিন আহম্মেদ পিয়াস, মো. রুবেল, শামীম আহম্মেদ ও মো. ইউসুফ ওরফে জীবন।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মোহাম্মদ থানার অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মার্জিন ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা, নরসিংদী ও সিলেটে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগজিন, দুটি মোটরসাইকেল ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ কুমার দাস মোহাম্মদপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে, সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটের দিকে সূত্রাপুরের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী দিনে দুপুরে জনম্মুখে তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় কোতয়ালী জোনাল টিমের এসআই কৃষ্ণ কুমার দাস ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছায়া তদন্ত শুরু করেন। ছায়া তদন্তকালে আসামিরা এ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য পেয়ে বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারে করে। তারা এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র গুলির বিষয়ে তথ্য দিলে, তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে কৃষ্ণ কুমার আসামি ইউসুফের মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারস্থ রশিদ ম্যানশনের পেছনের একটি বাড়ি থেকে ওয়ারড্রবের নিচ থেকে সে দুটি পিস্তলও গুলি বের করে দেয়। জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে ফারুক এবং রবিন হত্যার ঘটনায় তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র শনাক্ত করে।
আসামিরা স্বীকার করে, সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটের দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তায় তারিক সাইফ মামুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রবিন ও ফারুক একাধিকবার গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারা আরও স্বীকার করে, দুই লাখ টাকা তাদের বড় ভাই রনির কাছ থেকে পেয়ে এ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
এনআর/এসএম