বইমেলায় ঢাবি শিক্ষক মুমিত আল রশিদের বই ‘ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ’

অমর একুশে বইমেলায় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদের নতুন বই ‘ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ’।
বিজ্ঞাপন
অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত এই বইটি নিয়ে লেখকের মোট গ্রন্থের সংখ্যা দাঁড়াল ৯টিতে। পারস্যের হাজার বছরের ধ্রুপদি সাহিত্যে প্রেমের যে চিরায়ত আবেদন, তারই এক অনন্য সংকলন এই গ্রন্থ।
বইটি প্রসঙ্গে ড. মুমিত আল রশিদ বলেন, ফারসি সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ‘এশক্ব’ বা প্রেম একটি প্রধান অনুষঙ্গ ও প্রথা হিসেবে স্বীকৃত। গদ্য কিংবা পদ্য– ফারসি সাহিত্যের প্রতিটি স্তরেই প্রেমের উপাদান অবিচ্ছেদ্য। আধ্যাত্মিক ও ইহজাগতিক প্রেমের সেই ঐতিহাসিক আখ্যানগুলো পারস্য সভ্যতা ও সাহিত্যের অলংকার হিসেবে সমাদৃত।
দীর্ঘদিন ইরানে অবস্থান ও ফারসি সাহিত্যের অন্দরমহলে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চেয়েছি বাংলাভাষী পাঠকরাও যেন ফারসি প্রেমের গল্পের স্বাদ নিতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই আমার প্রিয় শিক্ষক হাসান জুলফেকারির দীর্ঘ কলেবরের সংকলন ‘শত প্রেমের গল্প’ থেকে চারটি গল্প অনুবাদ করে এই গ্রন্থে তুলে ধরেছি। ভবিষ্যতে পুরো বইটি অনুবাদের মাধ্যমে ফারসি সাহিত্যের সেই প্রেমসুধা সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে আছে।’
বিজ্ঞাপন
বইটি অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের ৫৩৫ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
ড. মুমিত আল রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বর্তমান প্রধান। ২০১৯ সালে ইরানের তেহরানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি শাখায় সংরক্ষিত বৈচিত্র্যময় ফারসি মনোগ্রাফ ‘গুলদাস্তে গুলশানে মা’আনি’। এটি বর্তমানে ইরান থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
একাডেমিক কাজের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’, ‘আসহাবে কাহাফ’, ‘কারবালা কাহিনী’, ‘বিবি মরিয়ম’ ও ‘শেহেরজাদ ফরহাদ’-সহ ৬টি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল এবং ৩৮টি ইরানি চলচ্চিত্র মূল ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১২টি চলচ্চিত্র বই আকারেও প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০১৮ সালে তার উদ্যোগেই বাংলাদেশে প্রথম ইরানি চলচ্চিত্র ‘শাবি কে মহ কমেল শোদ’-এর চিত্রধারণ সম্পন্ন হয়। তিনি ইরান-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘দিন দ্য ডে’-এর ইরানি অংশের উপদেষ্টা এবং জয়া আহসান অভিনীত ‘ফেরেশতে’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ফেরেশতে’ চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ভারত, ইরান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে মানবিক বার্তার জন্য পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
২০২৩ সালে ইরান থেকে প্রকাশিত তার প্রবন্ধ ‘বেঙ্গলি ট্রান্সলেশনস অফ খৈয়াম’স রুবাইয়াত অ্যান্ড ইটস চ্যালেঞ্জেস’-এর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ‘ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড ফর টিচার্স ২০২৫’ অর্জন করেন। এ পর্যন্ত থাইল্যান্ড, সিরিয়া, চীন ও ফ্রান্সের ইউনেস্কো সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি ফারসি সাহিত্যের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তার ২৫টি প্রবন্ধ এবং মোট ২০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে– ‘ইরানের পথে প্রান্তরে’, ‘ফারসি ব্যাকরণ শিক্ষা’, ‘পারস্যের লোকজ সংস্কৃতি ও উৎসব’ এবং ‘দামেস্কের দিনলিপি’।
এসএআর/বিআরইউ