বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ

‘মনে হয় আমি বাঁচব না, ছেলেকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে’

Sayed Amanat Ali

০৬ জুন ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম


‘মনে হয় আমি বাঁচব না, ছেলেকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে’

মনে হয় আমি আর বাঁচব না, ছেলেকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। জ্ঞান ফিরেই চট্টগ্রামে এ কথা বলেছিলেন দগ্ধ ফায়ার ফাইটার গাউছুল আজম। বর্তমানে তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

রোববার (৫ জুন) বিকেলে গাউছুল আজম ও রবিন মিয়া নামে দুই ফায়ার ফাইটারসহ ৭ জনকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

সোমবার (৬ জুন) দুপুরে সরেজমিন বার্ন ইউনিটে ফায়ার ফাইটার গাউছুল আজমের বোনের জামাই মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, গাউছুল আজম পাঁচ বছর আগে ফায়ার সার্ভিসের চাকরিতে যোগদান করে। দুই বছর আগে সে বিয়ে করে। তার পাঁচ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। 

সেদিন রাতের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মিজানুর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পরে খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার স্টেশন থেকে আগুন নেভানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন গাউছুলরা। যাওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটলে গাউছুলসহ অনেকেই আহত হয়। সেখান থেকে প্রথমে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ফায়ার সার্ভিসের দুই জনসহ ৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নিয়ে আসা হয়। আনার পরে তাকে আইসিইউতে রেফার্ড করা হয়। তার অবস্থা ভালো না।

ডিপোতে বিস্ফোরণের পরই সে অজ্ঞান হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পরে তার (গাউছুল) জ্ঞান ফিরলে সে বলে 'আর বাঁচব না, ছেলেকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে'। এরপর সে তার মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে। সে বারবার বলছিল আমার ছেলেটার মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। আর বুঝি ছেলের মুখ দেখা হবে না। গাউছুল আজমের শ্বাসনালীসহ ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। পরিবারের সে উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলে। তার বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর থানা এলাকায়।

এদিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বিএম কনটেইনার ডিপোর কনটেইনার রিসিভার ফরমানুল ইসলাম। কথা হয় ফরমানুল ইসলামের চাচি ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিস্ফোরণের পর প্রথমে আমাকে সে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে সে জানায় তার শরীর ঝলসে গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানা এলাকায়।

দগ্ধদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের এখানে চট্টগ্রামের ঘটনায় ১৬ জন এসেছেন। তাদের মধ্যে একজনকে গতকাল ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। বাকি ১৫ জন আমাদের এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৫ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদেরকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।

আইসিইউতে যে চারজনকে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- ফায়ার ফাইটার রবিন মিয়া ও গাউছুল আজম, বিএম ডিপোর সিকিউরিটি ম্যানেজার একেএম মাকফারুল ইসলাম এবং ফরমানুল ইসলাম। 

তিনি আরো বলেন, আজ দুপুরে সজীব (৩০) নামে একজন এসেছে। তার শরীরের ৭ শতাংশ ফেস বার্ন হয়েছে। 

দগ্ধ চিকিৎসাধীন অন্যরা হলেন- খালেদুর রহমান (৫৮), অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের এএসপি ও বিএম ডিপোর সিকিউরিটি ম্যানেজার এ কে এম মাকফারুল ইসলাম (৬৫) ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম (৩৭), বিএম ডিপোর ইমপোর্ট সুপারভাইজার শেখ মাইনুল হক (৪১), শ্রমিক আমিন (২২), কনটেইনারের গাড়িচালক মো. রাসেল (৩৯) ও ফারুক হোসেন (৪৫), ফায়ার ফাইটার গাউসুল আজম (২২) ও রবিন মিয়া (২২), ইঞ্জিনিয়ার মাসুম মিয়া (৩৪), রিসিভার ফরমানুল ইসলাম (৩০), রুবেল মিয়া (৩৪), ফারুক (১৬), হোসেন মহিবুল্লাহ (২৭), নজরুল ইসলাম মন্ডল (৩৮)।

আবাসিক সার্জন আরও জানান, রোগীদের চিকিৎসা দিতে শেখ হাসিনা বার্নের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম স্যারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনা বার্নের সমন্বয়ক ডা সামন্ত লাল সেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম চট্টগ্রামে গেছে।

এসএএ/জেডএস

টাইমলাইন

Link copied