ঢাকায় বাসে তল্লাশি করে মিলল দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলি

রাজধানীর শ্যামপুরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সোহাগ পরিবহনের একটি গাড়িতে তল্লাশি করে আজগর আলী ওরফে ভোলাকে(৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার(ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান, লালবাগ বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযানের জন্য চাঁনখারপুল এলাকায় অবস্থান করছিল। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে করে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী ঢাকায় প্রবেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামপুর পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ‘বনফুল’ মিষ্টির দোকানের সামনে ডিবি লালবাগ টিম অবস্থান নেয়।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেনাপোল থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের বাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। এরপর বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাঙ্ক্ষিত সেই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম আজগর আলী ওরফে ভোলা।

এরপর আজগর আলীর দেহ তল্লাশি করে তার কোমরের একপাশ থেকে একটি রুপালি রঙের বিদেশি পিস্তল এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো দুটি রুপালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তাঁর কোমরের অপর পাশ থেকে একটি কালো রঙের পিস্তল এবং প্লাস্টিকের স্কচটেপে মোড়ানো আরও দুটি কালো ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আজগর আলীর হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে কিছু পাওয়া না গেলেও, পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তার বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল থানা এলাকায়। এর আগে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ২০২৪ সালে সাভার থানায় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হন। ধারণা করছি তিনি অস্ত্র ব্যবসায়ী। তবে সে এই অস্ত্র কোথা থেকে নিয়ে এলো এবং কার কাছে ঢাকায় বিক্রি করত সেই বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এসব অস্ত্র ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এগুলো আনা হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এসব অবৈধ অস্ত্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো।
তিনি আরও জানান, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসব অস্ত্র কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কার কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এসএএ/এমজে