দরপত্র ছাড়াই কেনা হবে র্যাবের ৩ জিপ, ১০০ প্যাট্রল পিকআপ, ৬০ মাইক্রোবাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জন্য ১৬৩টি যানবাহন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে এসব গাড়ি কেনা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, ‘র্যাব ফোর্সেস এর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস কেনা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে এসব যানবাহন প্রয়োজন। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) গাড়ি কেনা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পিপিএ-২০০৬-এর ৬৮ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে র্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছে সরকার।
র্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে একই বৈঠকে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণের প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) তালিকা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনা এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের অনুমোদন পেলেও চিহ্নিত জায়গাটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য কোনো কারিগরি সহায়তা (টিএ) নিয়োগ করা হয়নি এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পের কোনো কার্যক্রম চলমান নেই। এই বাস্তবতায় প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এমএম/বিআরইউ