নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করে সমন্বিত দিকনির্দেশনা বিআইপির

বাংলাদেশের পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলামোটরে বিআইপি কনফারেন্স রুমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ইশতেহার পর্যালোচনা : পরিকল্পনা, নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন এসব তুলে ধরা হয়।
বিআইপির সহ-সভাপতি-১ পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার যদি সমন্বিতভাবে বিবেচনা ও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়ন কেবল প্রকল্পনির্ভর হলে চলবে না; বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিআইপি সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থহাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনই নয়, বরং দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার একটি নতুন সূচনা হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের সামনে তাদের উন্নয়নভিত্তিক ভিশন, অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে নগরায়ন, অবকাঠামো, আবাসন, পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে।
বিআইপির উপদেষ্টা পরিকল্পনাবিদ সালমা এ. শফি বলেন, প্রায় প্রতিটি দলই নগর পরিকল্পনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সচেষ্ট ছিল। কোনো দলের ইশতেহারে যে বিষয়টি অনুপস্থিত ছিল, অন্য দলের ইশতেহারে সেটি স্থান পেয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আগামী নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর মতো পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।
বিআইপির সহ-সভাপতি-২ পরিকল্পনাবিদ ড. ফারহানা আহমেদ বলেন, যত্রতত্র অপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে দেশের নগরগুলো ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিটি দলই সমন্বিত পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও টেকসই নগরায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।
বিআইপি’র সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহম্মদ খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পরিকল্পনার বিষয়গুলো আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তবে টেকসই উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
পরে বিআইপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোতে প্রাধান্য পায়পরিকল্পিত নগরায়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিশেষায়িত এলাকা, স্তরভিত্তিক পরিকল্পনা,বসবাসযোগ্য ও সাশ্রয়ী আবাসন, নাগরিক সেবা ও নগর সুবিধা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল শহর, গণপরিবহন ও চলাচল ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ও নগর শাসন, সামাজিক ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি, প্রমাণভিত্তিক ও পেশাদার পরিকল্পনার বিষয়গুলো সুপারিশে উঠে এসেছে।
এএসএস/এমএসএ