‘১৫ বছর পর ভোট দিতে পেরেছি, খুব আনন্দ লাগছে’

বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও মনের জোর কমেনি মাহফুজুর রহমানের। পঁচাত্তর বছর বয়সী এই বৃদ্ধ একসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা ছিলেন; এখন সময় কাটে পরিবারের সঙ্গে। তবে আজকের সকালটা ছিল তার জন্য বিশেষ কিছু। দীর্ঘ দেড় দশক অপেক্ষার পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে মাহফুজুর রহমানের চোখেমুখে এখন সার্থকতার হাসি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম মুহূর্তেই হাজির হন মাহফুজুর রহমান।
কোনো প্রকার ঝক্কি ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখায়।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এই প্রবীণ ভোটার বলেন, ‘আমার কাছে খুব আনন্দ লাগছে। এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট দিতে পেরেছি। এটাই আমার জীবনের সার্থক। আগামীতে দিতে পারব কি না জানি না। এজন্যই খুব সকালে এসে ভোট দিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, নিজে ভোট দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি, এখন বাসায় গিয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে পাঠাবেন যেন তারাও দ্রুত ভোট দিয়ে আসতে পারেন।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে মাহফুজুর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘খুব ভালো পরিবেশ। কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিচ্ছেন সবাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বেশ ভালো। আশা করি দিনভর এমন পরিবেশ থাকবে।’
সাধারণ মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ আগামীর স্বপ্ন দেখেন তিনি। বলেন, ‘আমরা চাই আগামী দিনে পরিবর্তন আসুক। যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন মানুষ।’
এদিকে, সকাল থেকেই বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোট দিচ্ছেন সবাই। কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরও পরিদর্শনে আসতে দেখা গেছে।
এমআরআর/বিআরইউ