উত্তরায় গৃহকর্মীর ফাঁদে বৃদ্ধ দম্পতি, চেতনানাশক খাইয়ে স্ত্রীর মৃত্যু

রাজধানীর উত্তরায় বাসায় কাজের লোক রাখার তিন দিনের মাথায় নৃশংসতার শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। গৃহকর্মীর দেওয়া চেতনানাশক মেশানো চা খেয়ে আয়েশা আক্তার (৬২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন (৬৮) গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দম্পতিকে অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে পালিয়েছেন ওই গৃহকর্মী।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে আনোয়ার হোসেন ও আয়েশা আক্তার দম্পতি তাদের সন্তানসহ বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আয়েশা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, ভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রবিনের মাধ্যমে তিন দিন আগে ওই গৃহকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার দিকে গৃহকর্মী সুকৌশলে তাদের চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যান। ওই সময় দম্পতির ছেলে ও তার স্ত্রী এক অনুষ্ঠানের কারণে মিরপুরে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত গৃহকর্মীর বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওসি বলেন, ‘গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ভবনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, ভবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে রবিন নামের এক তরুণ, যে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ফ্ল্যাট মালিক আনোয়ার হোসেন তাকে একটি ‘কাজের বুয়া’র ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিলেন। রবিন রাস্তা থেকে ওই নারীকে পেয়ে মালিকের কাছে নিয়ে যায় এবং মালিক নিজেই কথাবার্তা বলে তাকে কাজে নিয়োগ দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাসাটিতে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ছেলে ও ছেলের বউ থাকতেন। ঘটনার সময় তারা বাসায় না থাকার সুযোগটিই নিয়েছেন ওই গৃহকর্মী।
এসএএ/বিআরইউ