আগের মতোই আজও জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকেরা। যাদের অধিকাংশই চান ট্যাংকি পূর্ণ করতে। এ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পাম্পের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কেও জড়াচ্ছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) উত্তরা, বিমানবন্দর ও টঙ্গী এলাকার কয়েকটি পাম্পে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পাম্পেই সতর্কতামূলক একটি বার্তা টানানো রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কিনে স্বাভাবিক ক্রয় প্রক্রিয়া বজায় রেখে সংযত ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তবে এই নির্দেশনার পরও অধিকাংশ বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের চালকরাই চাচ্ছেন পুরোপুরি ট্যাংকি ফুল করতে।

কয়েকটি পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা বলেন, অধিকাংশরাই কম তেল নিতে চান না। সবাই ট্যাংকি পূর্ণ করতে চান, ফলে পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
টঙ্গীর এশিয়া পাম্পের বিক্রয়কর্মী আলআমিন বলেন, আমরা বারবার বলছি কম করে নিতে, যাতে সবাই তেল পায়। কিন্তু বেশিরভাগ লোকজনই ট্যাংকি ফুল করতে চান। না দিলে অনেক সময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
রবিউল নামের আরেক বিক্রয়কর্মী জানান, লাইন অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে, চাপও বেশি। একজনকে বেশি দিলে পেছনের লোকজন ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। তাই আমরা সীমিত দিতে চাই, কিন্তু অনেকেই তা মানতে চান না।
তবে এ পরিস্থিতির বিপরীতে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও জানান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। তাদের অভিযোগ, চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক চালক বলেন, অল্প তেলে একাধিক ট্রিপ দেওয়া যায় না, ফলে আয় কমে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত রুটে নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

ভিক্টর পরিবহনের গাড়ির স্টাফ মমিনুল বলেন, আমার গাড়িতে মাত্র ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। এভাবে তো চলছে না। এইটুকু তেল দিয়ে কতক্ষণ চলবো?
অন্যদিকে, চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
গত শনিবার এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন।
আরএইচটি/এমএন
