পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী ছাবের আহমদ দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে হাজী ছাবের আহমদের এ বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাকে সুবিধাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মঈন উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার নেতাকর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালান ছাবের আহমদ। পুলিশ প্রশাসন ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে হয়রানি ও হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। একপর্যায়ে বিজিসির সদস্যরা একটি কেন্দ্রের শৌচাগার থেকে তাকে ব্যালটসহ হাতেনাতে আটক করলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জানা যায়, গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। রোববার সেটি স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার জুলধা এলাকার তেল শুক্কুর নামে পরিচিত আবদুল শুক্কুরও একইভাবে হলফনামার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, হাজী ছাবের আহমদ চেয়ারম্যান থাকাকালে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতেন না। স্থানীয় বাজারে তার মাছের ব্যবসা এবং একাধিক মাছ ধরার জাহাজ থাকায় তিনি অধিকাংশ সময় ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে পরিষদের কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা কম ছিল। নিজ এলাকা চরপাথরঘাটায় বাড়ি থাকলেও পরিবার নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় বসবাস করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পশ্চিম চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন ছাবের আহমদ। ওই সময় ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ ব্যালট পেপার এবং তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে আরও ২০০ ব্যালট পেপার জব্দ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
হলফনামায় হাজী ছাবের আহমদ দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দলীয় পদটি নিজে থেকে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন। তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী ছাবের আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তির কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই স্বেচ্ছায় সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদত্যাগ করেছেন। ভবিষ্যতে এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
এমআর/এমএন
