বিজ্ঞাপন

ঘাটে ছিল না ফেরি, তারপরও এগোতে গিয়ে নদীতে ডুবল ট্রাক

অ+
অ-
ঘাটে ছিল না ফেরি, তারপরও এগোতে গিয়ে নদীতে ডুবল ট্রাক

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ফেরি না থাকা সত্ত্বেও সামনে এগোতে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে একটি ট্রাক তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে কালুরঘাটের বোয়ালখালী অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি রড বোঝাই করে লোহাগাড়া উপজেলায় পণ্য পৌঁছে দিয়ে খালি অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরে ফিরছিল। ফেরার পথে কালুরঘাটে পৌঁছালে সেখানে কোনো ফেরি ছিল না। এরপরও ট্রাকটি সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. ওসমান ট্রাক থেকে নদীতে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ ট্রাকটিতে চালক ছাড়া আরও একজন থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন নিশ্চিত হয়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকে চালক ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। এ কারণে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের উদ্ধারকাজে নামতে হয়নি।

আহত চালক মো. ওসমান কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অলক চাকমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘাটে কোনো ফেরি ছিল না। তারপরও ট্রাকটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় এ ঘটনা ঘটে। চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নদীতে লাফ দেন, এতে তিনি বুকে ও মাথায় আঘাত পান।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ট্রাকে অন্য কারও উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নিখোঁজের কোনো ঘটনা নেই এবং উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বিআইডব্লিউটিএ।

এর আগে, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এমআর/বিআরইউ