বিজ্ঞাপন

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান

‘সকাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছি, অভিযান শেষ হলেই দোকান খুলব’

অ+
অ-
‘সকাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছি, অভিযান শেষ হলেই দোকান খুলব’

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ (রোববার) ছিল ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পুলিশের পাঁচ দিনব্যাপী অভিযানের শেষ দিন। সকাল ১০টায় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বাণিজ্যিক এলাকা এবং দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে অভিযান শুরুর আগেই এসব এলাকার ফুটপাত ফাঁকা হয়ে যায়। পুলিশের গাড়ি ও ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই আবার পসরা সাজিয়ে বসার অপেক্ষায় ছিলেন অনেক ফুটপাত ব্যবসায়ী।

বিজ্ঞাপন

এতে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সকাল থেকেই ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেননি। অনেকেই গত দুই-তিন দিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছেন। তবে কেউ কেউ দূরে অবস্থান নিয়েছিলেন, যেন অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার দোকান খুলতে পারেন।

ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের না পেয়ে তদের রেখে যাওয়া অনেকগুলো চৌকি কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে অনেক ব্যবসায়ী ছোট ছোট ভ্যানে করে তাদের চৌকি দূরে সরিয়ে রাখেন।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের উল্টো পাশে মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশনের কাছে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবহৃত চৌকি সরিয়ে রেখেছিলেন। তাদেরই একজন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছি, অভিযান শেষ হলেই দোকান খুলব। আমাদের আগে থেকেই জানা রয়েছে আজকে অভিযান হবে। তাই সব মালামাল ও চৌকি সরিয়ে নিয়ে রাখছি।’

বিজ্ঞাপন

বেলা ১১টার পর ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুর রহমানের নেতৃত্বে এবং এসি ট্রাফিক (মতিঝিল জোন)-এর সহায়তায় এই এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সড়কের পাশে পার্কিং করা অনেকগুলো মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তবে মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশনের সামনে অনেকগুলো গাড়ি তেল নিতে সড়ক অবরোধ করে রাখলেও মানবিক দৃষ্টিতে সেখানে কোনো মামলা বা জরিমানা করা হয়নি।

এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সড়ক অবরোধ বা অবৈধ পার্কিং বিবেচনায় এগুলোতে মামলা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তা করা হলে সেটি অমানবিক হবে।’

গত ১ এপ্রিল থেকে রাজধানীজুড়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। পূর্বঘোষণা দিয়ে পরিচালিত এ অভিযান আজ শেষ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পরিচালিত অভিযানে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না বলে মনে করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অভিযান শুরুর দিনে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ বলেছিলেন, ‘আমরা চাই, অভিযানে সড়কে যাঁদের অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন পুনরায় ফিরে আসতে সাহস না পান। তারা যদি পুনরায় ফুটপাতে অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান, তাহলে অঘোষিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ তাদের বিতারিত করা হবে।’

এমএমএইচ/বিআরইউ