যেভাবে পাঠকদের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল ঢাকা পোস্ট

২০২১ সাল। কোভিড-১৯ এর ওই সময়কালে গোটা সংবাদ ইন্ডাস্ট্রি যখন এক অস্থির সময় অতিবাহিত করছিল ঠিক ওই সময় দেশে আসে একটি নতুন নিউজ পোর্টাল। রাজধানীর শেওড়া পাড়ায় যেখানে গ্রিন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ক্যাম্পাস ছিল সেখানেই নিউজ পোর্টালটিতে যুক্ত হওয়া একঝাঁক তরুণ সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজমের নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করেছিলাম। ওই বছরেরই ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা পোস্ট।
চালু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে নিউজ পোর্টালটি বাংলাদেশি তরুণ শ্রেণির পাঠকদের কাছে আস্থা অর্জন করে। ২০১৬ সালে মিডিয়া ইনসাইট প্রকল্পের একটি গবেষণায় উঠে আসে যে, যেসব গণমাধ্যম পাঠকদের আস্থা ও ভরসা অর্জন করতে পারে তারা রেভিনিউ বৃদ্ধিতে এবং পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ সুবিধা পায়। জনগণ যখন গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে তখন তারা পয়সা খরচ করেও প্রিমিয়াম কন্টেন্ট পড়তে চায়, তাদের মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং খবর বন্ধু ও পরিজনের সাথে শেয়ার করে।
বিগত পাঁচ বছরে ঢাকা পোস্ট-এর অনলাইন সাংবাদিকতায় কনটেন্টের কলেবরে যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটেছে। নিউজ পোর্টালটি ডিজিটাল ফার্স্ট স্ট্র্যাটেজি বা সবার আগে ডিজিটাল কৌশল প্রয়োগের বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছে এবং এর সুফলও পাচ্ছে। ডিজিটাল ফার্স্ট স্ট্র্যাটেজি মানে হচ্ছে গণমাধ্যমের কন্টেন্ট সবার আগে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া উপযোগী করে প্রচার করা। এই দুই মাধ্যমকে বিবেচনা করে বিগত এই সময় পোর্টালটিকে মাল্টিমিডিয়া তথা ইন্টারেক্টিভ ও অটোমেশন কনটেন্টের ওপর বেশি জোর দিতে দেখা গেছে।
২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সময়ের অগ্রযাত্রায় অনলাইনে খবর পড়া কিংবা দেখার ক্ষেত্রে পাঠক-দর্শকের রুচির পরিবর্তন ঘটছে। পাঠক সংবাদ পড়ার পাশাপাশি সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায়; চায় সংবাদটি যেন তার ডিভাইসে দেখার উপযোগী হয়। আর এ কারণেই হয়তো বা ঢাকা পোস্ট খবর প্রচারে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা পোস্ট তাদের মাল্টিমিডিয়া বিভাগে আগের চেয়ে অনেক বেশি লোকবল নিয়োগের পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরিতে অনেক বৈচিত্র্য এনেছে। ব্রেকিং নিউজ, ছবি, ভিডিও, অডিও, টকশো, বিনোদনভিত্তিক অনুষ্ঠানসহ নানা কনটেন্ট আমরা ঢাকা পোস্ট-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি।
বস্তুত সাংবাদিকতায় পরিবর্তনের এই ঢেউ পশ্চিমা বিশ্ব পেরিয়ে আমাদের দেশেও আছড়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের এখন দায়িত্ব-কর্তব্য ছাপা কাগজ, ওয়েব, রেডিও কিংবা টেলিভিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একাধারে তাদের ছবি, অডিও-ভিডিওর সমন্বয়ে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য মাল্টিমিডিয়া গল্প তৈরির কাজ করতে হচ্ছে। তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা দিনদিন আরও বেশি মাল্টিমিডিয়া–নির্ভর হয়ে উঠেছে। ঢাকা পোস্টও ঠিক এই পথ ধরেই হাঁটছে।
শুরু থেকেই ঢাকা পোস্ট নানাবিধ অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশনে বৈচিত্র্য আনা, বিগ ডাটা নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ, ঘটনা ঘটার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ভুল ব্রেকিং নিউজ সরবরাহ করা এবং নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠকদের কাছে আলাদা নজরে আসে।
ওয়েবসাইট চালুর প্রথম দিন থেকেই খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি ঢাকা পোস্টকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ বছর ধরে অনলাইন সাংবাদিকতা কোর্সটা পড়াচ্ছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খবর তৈরি ও প্রকাশের নয়া যে কৌশল তারা (ঢাকা পোস্ট) নিয়ে এসেছে; তা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজে প্রয়োগ করছি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করে যাওয়া এই গণমাধ্যম বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতা চর্চাকে অনেকটা সামনের দিকে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের এত এত নিউজ পোর্টালের ভিড়ে ঢাকা পোস্টকে কেন আলাদা করে উল্লেখ করতে হচ্ছে বা একজন পাঠক কেন ঢাকা পোস্ট পড়বেন; তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
পাশাপাশি তারা আধুনিক সাংবাদিকতা চর্চার বেশকিছু বিষয়ে নজর দিতে পারে। সেখান থেকে কয়েকটি বিষয়ে এখানে উল্লেখ করলাম—
হাইপার লোকাল রিচ
ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় দেশের ৬৪টি জেলাতেই তাদের প্রতিনিধি রয়েছে। সারা দেশজুড়ে থাকা এই বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি ঢাকা পোস্ট-এর জন্য বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করছেন। আঞ্চলিক এলাকাভিত্তিক খবরই তাদের পাঠকদের খবর জানার একটা বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। বিশেষকরে এলাকাভিত্তিক খবর ও বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের খবর জানার জন্য কাস্টমাইজড সার্চ ফিচারটি পাঠকদের বেশ কাজে আসে।
আঞ্চলিক থেকে আন্তর্জাতিক খবরের ট্রেন্ড জানার জন্য শুরু থেকে ঢাকা পোস্ট গুগল ট্রেন্ড-এর মতো আধুনিক টুল ব্যবহার করছে।
মাল্টিমিডিয়া স্টোরিটেলিং
শুরু থেকেই ঢাকা পোস্ট ফেসবুক লাইভ ভিডিও দিয়ে আলাদা নজরে আসে। ফেসবুকের লাইভ ফিচার ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি ভিডিও প্রচার করছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো ভিডিও কনটেন্ট ঢাকা পোস্ট-এর ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যায়।
চাইলে ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েবসাইট থেকেও ভিডিওগুলো দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ঢাকা পোস্ট তাদের প্লাটফর্মগুলোয় ৩০ থেকে ৪০টি ভিডিও নিউজ ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি ভিডিও নিউজ আপলোড করে থাকে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোয় খুবই সীমিত পরিসরে ওয়েব ভিডিওর আয়োজন ছিল। সময়ের পরিবর্তনে নিউজ পোর্টালগুলোয় ভিডিও নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখন প্রায় সব নিউজ পোর্টালেই ভিডিও বিভাগ চালু হয়েছে।
ওয়েব ভিডিওর জন্য ঢাকা পোস্ট প্রযোজক থেকে শুরু করে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, মোবাইল সাংবাদিক, কনটেন্ট নির্মাতা, ভিডিওগ্রাফার, গ্রাফিক্স ডিজাইনারসহ বিভিন্ন পেশায় লোকবল রয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে অনলাইন সাংবাদিকতা চর্চার ইতিবাচক দিক বলব।
ইনফোগ্রাফিক ও পডকাস্ট
ইনফোগ্রাফিক্স নিয়ে তাদের আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ডেটা ভিত্তিক গল্প বলার সময় পাঠকদের চাহিদা পূরণের জন্য ইনফোগ্রাফিক্স হতে পারে এক অত্যাবশ্যকীয় কন্টেন্ট। নানাভাবে এই কনটেন্টের চর্চা করার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা পোস্ট বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পডকাস্ট আপলোড হয় ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। পরে সেটি আর নিয়মিত আকারে চর্চা করা হয়নি। পডকাস্ট বলা হলেও আসলে সেটি ছিল ঢাকা পোস্ট-এ পাবলিশ হওয়া খবরের অডিও ভার্সন। এরপরে আর ঢাকা পোস্ট-এ পডকাস্ট দেখা যায়নি। এটা নিয়ে তারা ভাবতে পারে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ঢাকা পোস্টকে যদি অন্য আট-দশটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে আলাদা করে উল্লেখ করতে চান তাহলে অবশ্যই এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথা বলতে হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ২০২১ সালের ২ মার্চ প্রকাশিত তাদের সেই আলোচিত “বিপর্যয়ের নেপথ্যে ‘ঘুমন্ত’ বিআরটিএ” প্রতিবেদনটির কথা উল্লেখ করতে হয়।
সেমি লং রিড ধাঁচের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি অনলাইন সাংবাদিকতায় ইনডেপথ রিপোর্টিং লেখা ও পরিবেশনের জন্য আদর্শ উদাহরণ বটে। অনলাইন সাংবাদিকতা কোর্সে এই প্রতিবেদনটি প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াই।
আরও পড়ুন
‘সীমান্তে টাওয়ার বসিয়ে তথ্য নিচ্ছে মিয়ানমার’ ও ‘প্রণোদনার কথা বলে ফাঁসিয়ে দিল পাঁচ কৃষককে’ শীর্ষক আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর কারণে ঢাকা পোস্ট ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
ভিন্নধর্মী আরও কয়েকটি প্রতিবেদন—‘জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ কি পর্যাপ্ত?’, ‘আকাশছোঁয়া ডাবের দাম, আগুনে পুড়ছে রোগীর পকেট’, ‘আপনার হাতেই মৃত্যুঝুঁকি, হেলমেট নাকি প্লাস্টিকের বাটি!’, ‘বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট নতুন ভোক্তা শিক্ষার্থীরা, তামাক পণ্য বিক্রি বন্ধ হবে কি?’-এর কথা উল্লেখ করতে চাই।
তাদের বেশিরভাগ প্রতিবেদনের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করে যাওয়া এই গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা অর্জন করেছেন মীনা পুরস্কার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি পুরস্কার ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা পুরস্কার।
রিচ ও বিগ ডাটা ওয়েবসাইট
রিচ ও রেসপনসিভ ওয়েবসাইট হিসেবে ঢাকা পোস্ট-এর নাম আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। সহজ নেভিগেশন বার, ট্রেন্ডিং কন্টেন্টের ট্যাগবার এবং চোখে আরামদায়ক ফন্ট সাইজ ওয়েবসাইটকে পাঠক বান্ধব করে তুলেছে। জাতীয় পর্যায়ের বড় ঘটনা উপলক্ষে কাস্টমাইজড হোমপেজ, চলমান ঘটনার কাভারেজের জন্য লাইভ ব্লগ কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তৈরি করা বিশেষ ডেটা ভিত্তিক ওয়েবসাইট ঢাকা পোস্টকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবরের আপডেট জানানোর পাশাপাশি ছবি, ভিডিও, এক্স পোস্ট, ইন্টারেক্টিভ ম্যাপসহ বিভিন্ন কনটেন্ট সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে লাইভ ব্লগ আকার ধারাবাহিক উপস্থাপন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা পোস্ট যে বিশেষ মাইক্রো পোর্টাল চালু করেছে তা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মানের।
এখানে থাকছে ‘রোড টু ইলেকশন’ শিরোনামে ধারাবাহিক আপডেট। যেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি, রাজনৈতিক সমীকরণ, মাঠের প্রচার এবং ভোটকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়।
এই বিশেষ পোর্টালের আসনভিত্তিক অনুসন্ধান ফিচারটি ছিল দারুণ। পাঠকেরা বিভাগ নির্বাচন করে অথবা সার্চ বক্সে আসনের নাম লিখে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী খবর জানতে পারছে। বিগ ডেটা নির্ভর এ বিশেষ মাইক্রো ওয়েব পোর্টালটি ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েব টিমের নিঃসন্দেহে সেরা একটি কাজ।
অ্যাপ এক্সপেরিয়েন্স
মাত্র ৪ মেগাবাইট সাইজের ঢাকা পোস্ট-এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি সহজেই প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। অ্যাপের ডাটা স্টোরেজ কম হওয়ায় কনটেন্ট খুব দ্রুতই রেসপন্স করে। থ্রিজি এবং ফোরজি ইন্টারনেট সংযোগে ঢাকা পোস্ট-এর অ্যাপটি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করবে। তবে ঢাকা পোস্ট-এর অ্যাপ থেকে ভিডিও কনটেন্ট দেখা যায় না। এটা নিয়ে তারা ভাবতে পারে।
মোবাইল ও সোশাল মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স
ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েবসাইটে একটা বড় সংখ্যক পাঠক আসে তাদের ফেসবুক পেজ থেকে। প্রায় ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ফেসবুক ফলোয়ারদের [১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ডাটা] জন্য তারা এফবি জিপিআই ব্র্যান্ডিং কৌশল ব্যবহার করে যার মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট ডেমোগ্রাফির কাছে তাদের কনটেন্ট পৌঁছে দেয়। তাছাড়া মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য খবরকে আরও বাইট সাইজে পরিবেশন করলে তা মোবাইল উপযোগী হিসেবে পাঠকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা পেত।
পশ্চিমা দেশগুলোতে আধুনিক অনলাইন সাংবাদিকতা চর্চায় আমরা ‘ডিস্ট্রিবিউটেড কনটেন্ট’ (Distributed Content)ও ‘এফইমিরাল সাংবাদিকতা’ (Ephemeral Journalism)—এই টার্ম শুনে থাকি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিবেচনা করে প্ল্যাটফর্ম উপযোগী বাইট সাইজ কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। ঢাকা পোস্ট তরুণ পাঠক দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে এই কৌশলটি বিবেচনা করতে পারে।
বাংলাদেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর কনটেন্টের ফিচার নিয়ে লেখা আমার একটি গবেষণা প্রবন্ধে ঢাকা পোস্ট-এর ওয়েব স্টোরিস ফিচার নিয়ে লিখেছিলাম। ঢাকা পোস্ট-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেখা বিশেষ প্রবন্ধে ওয়েব স্টোরিজের কথা উল্লেখ করেছিলাম।
ওই লেখায় আমি বলেছিলাম, ওয়েব স্টোরিজ-কে বলা চলে ওয়েবসাইটে ডিজিটাল কনটেন্ট পরিবেশনের সর্বশেষ সংস্করণ। দেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পাঠকদের সামনে এই ওয়েব স্টোরিজ সর্বপ্রথম নিয়ে আসে ঢাকা পোস্ট। ৯ অনুপাত ১৬ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে তৈরি ও প্রচার করা এক-একটি ওয়েব স্টোরিজ প্রযুক্তিনির্ভর সমসাময়িক অনলাইন সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ওয়েব স্টোরিজ নিয়ে আলাদা ল্যান্ডিং পেজও তাদের সাইটে রয়েছে। কিন্তু সেখানে এখন আর নতুন কনটেন্ট আপলোড করা হয় না। অথচ এই কনটেন্টটি ঢাকা পোস্টকে বিশেষ পরিচিতি পেতে সাহায্য করতো।
ওয়েব, মোবাইল, ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এই সাংবাদিকতার মাল্টি প্ল্যাটফর্ম যুগে গণমাধ্যমের সব আয়োজন এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তার পাঠক-দর্শক। ধীরে ধীরে পাঁচ বছরে ঢাকা পোস্ট তার পাঠকদের কাছে ‘ডিজিটাল-ফাস্ট’ গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
এই ‘ডিজিটাল-ফাস্ট জার্নালিজম’ প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার চর্চা, কর্মকৌশল ও সরঞ্জাম-টুলস এর ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে এই সময়ের সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার আধুনিকায়নে অবদান রেখে চলেছে।
ড. জামিল খান : সহযোগী অধ্যাপক, জার্নালিজম, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি