এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক সুযোগ: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের কাছ থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই অধিকার আবার ফিরে এসেছে। কোনোভাবেই এই সুযোগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।’
গতকাল রাতে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন মানে কেবল একটি ভোট নয়, নির্বাচন মানে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিজের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করা। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে তথাকথিত নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণ নির্ভয়ে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে।
তিনি বলেন, এই সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে গত ১৬ বছরে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় স্বৈরাচার ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪শ মানুষকে হত্যা করে, হাজারের বেশি মানুষ আহত হয় এবং অনেকে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান।
জনসভায় উপস্থিত জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
এবারের নির্বাচনকে অর্থবহ করতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেই চলবে না, এই ভোটকে অর্থবহ করতে হবে। গত ১৬ বছরে দেশের নামে মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, এলাকার উন্নয়ন হয়নি। যদি উন্নয়ন হতো, তাহলে আজ ঢাকা-১৩ আসনের মানুষের সমস্যাগুলো থাকত না।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে গত ১৬ বছরে শুধু দুর্নীতির জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। জনগণের কল্যাণ হয়নি। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে জনগণের কোনো উপকার হবে না। দরকার হচ্ছে কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মানুষের পক্ষে সম্ভব—এমন কাজই করা হবে। অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের উন্নয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জনসভায় ববি হাজ্জাজের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসস্থান সমস্যাও সমাধান করা হবে। ‘ধানের শীষে’ ভোট দিয়ে ববি হাজ্জাজকে নির্বাচিত করুন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের প্রতি ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ‘কথা একটাই, কাজ একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ।’
সূত্র : বাসস।
এনএফ