ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক খালেদ এল এনানি মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে নতুন বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও মাতৃভাষা সংরক্ষণে ঢাকার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে খালেদ এল এনানি বলেন, শিক্ষাজীবনই তরুণদের জন্য মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি বাংলাদেশসহ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কার্যকর কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং নিজের মাতৃভাষা আরবিতে বক্তব্য দেন।
এবারের আয়োজনে প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ইউনেস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাধারণ পরিষদের সভাপতি খন্দকার এম তালহা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইউনেস্কোর কার্যক্রম বিশ্ববাসীর কাছে তাদের নিজস্ব ভাষায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি। নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তানজানিয়া ও পূর্ব তিমুরের মন্ত্রীরা অংশ নেন। এতে দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের কেচুয়া ভাষার প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্পেনের ভাষা গবেষক অধ্যাপক ড্যামিয়েন ব্লাসি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্যের অংশ উপস্থাপন করলে ইউনেস্কো প্রাঙ্গণে বিশ্ব ভাষার বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিল অংশ নেয়। বাংলাদেশের শিল্পীদের লোকসংগীত পরিবেশনা উপস্থিত কূটনীতিক ও দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। তারা জানান, বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষা ও মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তাদের গর্বিত করেছে।
বিআরইউ