অজু থাকা সত্ত্বেও অজু করা যাবে?

অনেকের কাছে অজু মানে নামাজের আগে তাড়াহুড়ো করে হাত-মুখ ও মাথা ধুয়ে নেওয়া। অথচ অজু শুধু ইবাদতের জন্য পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জনের মাধ্যম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মাথায় মাসেহ কর এবং পায়ের টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে নাও। (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৬)
অজুর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, নুআইম মুজমির (রহ.) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। এরপর তিনি অজু করে বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে, যে অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৬)
এছাড়াও অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন।রাসুল (সা.) বলেছেন, অজুর সময় চোখ, হাত আর পায়ের সাথে করা পাপ পানির ফোঁটার সাথে ধুয়ে যায়।
কাজেই অজু প্রতিটি ধাপ মনোযোগ দিয়ে করুন। কোনো অংশ যেন শুকনো না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অজুর অন্যতম আরেকটি ফজিলত হলো, অজু করে ঘুমালে ফেরেশতারা সারারাত আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পবিত্র হয়ে ঘুমায়, তার পাশে ফেরেশতা থাকে এবং দোয়া করে, ‘হে আল্লাহ, এ বান্দাকে মাফ করে দিন।
যতবার ইচ্ছা অজু করা যায় এবং অজু থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক নামাজ বা অন্য যেকোনো ইবাদতের জন্য নতুনভাবে অজু করা সুন্নত। তবে একবার অজু করার পর কোন আমল না করেই আবার নতুন করে অজু করাকে অনুত্তম বলেছেন ফেকাহবিদ আলেমরা।
এনটি