হঠাৎ বাড়ছে স্বর্ণের দাম, যাকাত দেবেন যেভাবে

সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর যাকাত আদায় করা ফরজ। যাকাতের হিসাব নির্ধারিত হয় মূলত স্বর্ণ বা রূপার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে। কোনো মুসলিমের কাছে এক বছর সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা কিংবা এগুলোর যেকোনো একটির সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ থাকলে যাকাত দিতে হয়।
বর্তমানে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। এই মুর্হূতে যাকাত আদায়ে করণীয় কী? বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ীই যাকাত দিতে হবে নাকি ইসলামের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে কোনো ছাড়া আছে?
ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো ছাড়া আছে কি?
যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ীই যাকাত দিতে হবে বলে জানিয়েছেন আইএফএ কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকার সহকারী মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম।
তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, যাকাতযোগ্য সম্পদের ওপর এক চন্দ্র বছর (হাওল) পূর্ণ হলে নিসাব পরিমাণ সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের আড়াই শতাংশ যাকাত আদায় করা ফরজ।
তিনি বলেন, যাকাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পদের ক্রয়মূল্য নয়, বরং হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনের বাজারমূল্যই বিবেচ্য। কারণ যাকাত সম্পদের প্রকৃত বর্তমান আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ধারিত একটি ইবাদত। তাই বাজারে মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস যাই ঘটুক, নির্ধারিত দিনে যে মূল্য বিদ্যমান থাকবে, তার ভিত্তিতেই হিসাব করতে হবে।
ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য বিবেচ্য হবে না ক্রয়মূল্য—এ নিয়ে অধিকাংশ ফিকহবিদের মতামত হচ্ছে: ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ হবে।
প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, যাকাত আদায় করবেন কীভাবে?
মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতেও যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনের বাজারদরই বিবেচনা করতে হবে। অতীতে যে দামে স্বর্ণ ক্রয় করা হয়েছিল তা প্রাসঙ্গিক নয়।
তিনি আরও বলেন, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা আবশ্যক। নিসাব হলো সাড়ে সাত ভরি (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম) স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম) রূপা, কিংবা এদের যেকোনো একটির সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ।
নগদ টাকা না থাকলে কী করবেন?
কারো কাছে যদি নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা সরাসরি না থাকে, তবে তার নিকট বিদ্যমান নগদ অর্থ, স্বর্ণ, রূপা ও ব্যবসায়িক পণ্য একত্রে যোগ করে যদি যেকোনো একটির নিসাব পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে।
তবে যদি কারো কাছে শুধু নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ থাকে কিন্তু হাতে নগদ অর্থ না থাকে, তবে তার জন্য সঙ্গে সঙ্গে ধার করে যাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সে চাইলে স্বর্ণের একটি অংশ বিক্রি করে যাকাত আদায় করতে পারে, অথবা পরবর্তীতে নগদ অর্থ প্রাপ্ত হলে বিলম্ব না করে যাকাত পরিশোধ করতে পারে। তবে যাকাত আদায়ে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করা বা অযথা বিলম্ব করা শারিয়াহসম্মত নয়।
যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—নিসাব পূর্ণ হওয়া, এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া এবং বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে সময়মতো যাকাত প্রদান করা।
এনটি