বিপিএল সেরা শরিফুলের আইডল মুস্তাফিজ, আছেন স্টার্কও

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর শেষ হয়েছে। যেখানে রানার্স-আপ হয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর দলটির হয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন শরিফুল ইসলাম। হয়েছেন সেরা বোলার, পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।
সবমিলিয়ে ২৬ উইকেট নিয়ে বিপিএল ইতিহাসের এক আসরে সর্বাধিক উইকেটের মালিক শরিফুল। বিপিএল শেষ হওয়ার পর নিজের ভালো লাগা, দল, বিশ্বকাপ না খেলাসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনের সঙ্গে কথা বলেছেন শরিফুল।
ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা শুরুতে কি ভেবেছিলেন?
শরিফুল: প্রত্যেকটা দলে যখন কোনো ক্রিকেটার সুযোগ পায় তখন কিন্তু সবাই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। সকল ক্রিকেটারেরই ইচ্ছা থাকে যে ফাইনালটা যেন জিততে পারে। তবে অন্য দলের তুলনায় আমাদের খেলেয়াড় কিন্তু খুব যে বেশি ভালো ছিল সেটাও না। তবে আমরা দল হিসেবে সবাই খুব ভালো পারফর্ম করেছি। যে কারণে কিন্তু আমরা ফাইনাল পর্যন্ত আসতে পেরেছি।

পরপর দুইবার আপনি নিজে ফাইনাল হারলেন, কতটা খারাপ লাগছে?
শরিফুল: হ্যাঁ, দেখেন আমি আসলে পর পর দুইবার ফাইনাল হেরেছি। একটা ক্রিকেটারের জন্য কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা অনেক কষ্টের। ফাইনালে গিয়েছি কিন্তু আমরা ফাইনাল ম্যাচে ভালো করতে পারি নাই। আমরা যেমনটা আশা করেছিলাম, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় আমরা ভালো খেলতে পারিনি। যে কারণে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। এখানে আসলে আর অন্য কিছু বলতে চাই না।
টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার পর কেমন অনুভূতি হচ্ছে?
শরিফুল: যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার হওয়া কিন্তু দারুণ কিছু। আরও যদি দেখেন, বিপিএলের মতো এত বড় টুর্নামেন্টে সেরা ক্রিকেটার হওয়া কিন্তু অনেক বড়। অবশ্যই ভালো লাগছে তবে এর মধ্যে কিন্তু কষ্ট থেকে গিয়েছে। কারণ যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম তাহলে আরও বেশি ভালো লাগতো।
বিপিএলে প্রথমবার কোনো পেসার জিতল এই টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার, কেমন লাগছে?
শরিফুল: হ্যাঁ এটা আসলে প্রথমে জানতাম না আমি। পরে জেনেছি আরকি, তো ভালো লাগছে। তাসকিন ভাইয়ের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের যে রেকর্ডটা সেটা ব্রেক হলো আরকি।
শুরুর দিকে উইকেট পাচ্ছিলেন না, পরে সেরা হলেন...
শরিফুল: না, আমি আসলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কখনো ভাবিনি যে আমি তাসকিন ভাইকে টপকে যাব। এমনকি শেষ ম্যাচের আগে পর্যন্ত আমি এটা নিয়ে একটুও চিন্তা করিনি। আমি সবসময় চিন্তা করেছি ম্যাচ-বাই ম্যাচ খেলার। আর চিন্তা করেছি আমি যাতে এমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারি যেটাতে দলের লাভ হয়। সেটা খুব ছোট হলেও সমস্যা নাই। এমনটাই চিন্তা করেছি সব সময়, আরেকটা বিষয় ভেবেছি সম্পূর্ণ ফিট থেকে যেন টুর্নামেন্টটা শেষ করতে পারি। এছাড়া সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করব এটা আমার মনে কখনো আসেনি।
আপনার আইডল কে, আবার জানতে চাই।
শরিফুল: আমার সবথেকে ভালো লাগে মুস্তাফিজুর রহমান ভাইকে। আর ব্যক্তিগতভাবে দেশের বাইরের বোলার হিসেবে মিচেল স্টার্ককে আমার খুব ভালো লাগে। আর যদি মানসিকভাবে আসলে শক্ত থাকার জন্য আইডল লাগে তো সেক্ষেত্রে সাকিব ভাইকে ভালো লাগে। যদি ব্যবহার হিসেবে কাউকে ভালো লাগে সেটা হলো রিয়াদ ভাইকে। ব্যবহার বলতে আমি যেটা বুঝাতে চাইছি যে, খুবই নম্রভদ্র থাকা, আসলে জেন্টালম্যান যেটাকে বলে। সবাই ভদ্র তবে উনি একটু আলাদা।
বিপিএল শুরুর আগের দিন ফ্র্যাঞ্চাইজি বদল...। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছিলেন?
শরিফুল: যখন বিপিএল শুরুর আগের দিন আমরা এমনটা শুনি এরপর আমরা দলের সকল ক্রিকেটার একত্রে বসেছিলাম। আলোচনা করছিলাম পরক্ষণেই বিসিবি যখন দায়িত্ব নিল তখন আমরা সবাই একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। আমরা যে দল হিসেবে সেরাটা দিয়ে খেলব, শুরু থেকেই আমাদের সবার মধ্যে এটা ছিল। মূলত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে নিজেদের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

বিসিবি দায়িত্ব নিয়ে পারফর্ম করতে সুবিধা করে দিয়েছিল নিশ্চয়?
শরিফুল: আমাদের দল নিয়ে বিপিএল শুরুর আগের দিন যে ঘটনা ঘটেছিল- তারপরে যখন বিসিবি দায়িত্ব নিল এরপর থেকে আমরা মানসিকভাবে ভালো ছিলাম, আসলে শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত। আমাদের দলে নাফিস ভাই ছিলেন, সুমন স্যার ছিলেন, বাবুল স্যার ছিলেন, তুষার ভাই, মমিন ভাই তারা সবাই আমাদেরকে এতটা পরিমাণ মানসিকভাবে সাপোর্ট করেছেন দারুণ। আর আমাদের খেলার জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে সুমন স্যারের কাছ থেকে, সেটা আলাদা করে বলতে হয় উনার কাছে আমি সবকিছু শেয়ার করতে পারি। তো ব্যক্তিগতভাবে আমার পারফর্ম করতে আরও সুবিধা হয়েছে এ কারণে।
পুরো টুর্নামেন্টে আপনার সবচেয়ে ভালো লাগা আর খারাপ লাগা কোনটা ছিল?
শরিফুল: না খারাপ লাগার আসলে তেমন কিছু ছিল না ফাইনাল হার ছাড়া। আর বাকি সবকিছু আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, হয়তো ফাইনালে ওরা ভালো খেলেছে আমরা খারাপ খেলেছি এই আর কী।
টুর্নামেন্ট সেরা পুরস্কার কাকে উৎসর্গ করতে চান?
শরিফুল: আমার ছেলেকে উৎসর্গ করতে চাই। সে ট্রফিটা খুব ভালোবেসেছে। তার হাতে দেওয়ার পরে সেটা নিয়ে সবসময় খেলতে পছন্দ করেছে।

বিশ্বকাপ হচ্ছে না, নিশ্চয় বড় পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন এই টুর্নামেন্টের জন্য?
শরিফুল: বিশ্বকাপের বিষয়টা আমি সবসময় বলেছি এটা সম্পূর্ণ সরকার এবং বিসিবির ব্যাপার ছিল। আসলে যে কোনো বড় টুর্নামেন্ট সকল ক্রিকেটার কিন্তু ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই। ম্যাচ খেলার আগে ভালো অনুশীলন করে রাখে আগে থেকেই। এখন বিশ্বকাপ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাই আর কি।
এই ফাঁকা সময়ে তাহলে কী করবেন?
শরিফুল: আমরা যখন ক্রিকেট খেলি তখন কিন্তু আসলে পরিবারকে খুব বেশি সময় দিতে পারি না। আসলে যেহেতু খেলা হচ্ছে না এই সময়ে পরিবারকে সময় দিব, ঘুমাবো। ব্যক্তিগত যে রুটিন আমি ফলো করি সবসময় জিম বা অন্যান্য কাজ যা আছে সেগুলো তো নিয়মিত চলবেই। একজন ক্রিকেটার কিন্তু সবসময় তার ফিটনেসের কাজ ছাড়া ঠিক থাকতে পারবে না।
এসএইচ/এফএইচএম
