বাংলাদেশকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান, অভিযোগ ভারতের

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে জটিলতা আরো ঘনীভূত হয়েছে। ভারতে না খেলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চেয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধ আইসিসি নাকচ করার পর এখন পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জন করবে কি না, সেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নাকভি পোস্ট করে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত আগামী 'শুক্র অথবা সোমবার' জানানো হবে।
এর মধ্যে গতকাল ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাজিব শুক্লা পাকিস্তানের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। এদিন দুপুরে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্লা মন্তব্য করেন যে 'বাংলাদেশকে উসকানোয় পাকিস্তানের বড় হাত' রয়েছে।
আইসিসির সঙ্গে বিসিবির কয়েক দফা বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে গত সপ্তাহে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করে। এরপর থেকে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন জল্পনা চলছিল যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলার প্রতিবাদে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে।
কয়েক দিনের জল্পনার পর গত ২৪ জানুয়ারি এই ইস্যুতে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আইসিসির সমালোচনা করে মন্তব্য করেন যে আইসিসি তাদের ব্যবহারে 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' নীতি নিচ্ছে বা 'দ্বিমুখী আচরণ' করছে।
আইসিসি ভারতকে সুবিধা দিচ্ছে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে, "আমার ধারণা বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ডে মিটিংয়েও বলেছি যে আপনারা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' করতে পারেন না।" "একটি দেশের যখন খুশি, যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে আর আরেক দেশের জন্য সম্পূর্ণ বিপরীত নীতি অবলম্বন করবেন – এজন্য আমরা এই অবস্থান নিয়েছি", বলেন নাকভি।
গত শনিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নাকভি একাধিকবার উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন পাকিস্তানের সরকারের ওপর। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পিসিবি চেয়ারম্যান।
পাকিস্তানি ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরগুলোতে বলা হচ্ছে যে, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট করা সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে শেহবাজ শরিফ ও মহসিন নাকভির মধ্যে। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ বয়কট না করে ১৫ই ফেব্রুয়ারি কলম্বোর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের প্রসঙ্গও উঠে আসে বলে প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমগুলোর খবরে।
সোমবার বিকেলে বৈঠকের পর নাকভি এক্সে করা পোস্টে উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী শেবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর শরিফ 'সব বিকল্প বিবেচনায় রেখে' সমস্যার সমাধান করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি শনিবার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও গত রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচন আকিব জাভেদ আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য তাদের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেন।

'বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে পাকিস্তান'
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে পাকিস্তানের শীর্ষ ক্রিকেট কর্মকর্তার মন্তব্য যখন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এমন সময় ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন যে পাকিস্তান বাংলাদেশকে 'উসকানি' দিচ্ছে।
সোমবার দুপুরে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্লা বলেন যে, "বাংলাদেশকে উসকানোতে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এসব করা উচিত নয়।" "পাকিস্তান বাংলাদেশকে বুঝিয়ে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যেটি ঠিক নয়", মন্তব্য করেন রাজিব শুক্লা।
রাজিব শুক্লা ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি রাজ্যসভার একজন সাংসদও। অন্যদিকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্থাৎ মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না চাওয়া এবং বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার জের এখন ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে পরিণত হয় কি না, তা নিয়েই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এফআই