বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের শতভাগ সাফল্যের রহস্য কী?

ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল জিম্বাবুয়ে। টুর্নামেন্টে দুইবারের দেখায় দুইবারই অজিদের হারাল আফ্রিকান দেশটি। কলম্বোতে আজ (শুক্রবার) তারা জিতেছে ২৩ রানে। ২০০৭ সালে যে সাফল্যের শুরু, তার পুনরাবৃত্তি হলো ১৯ বছর পর।
তিন ফরম্যাটেই বৈশ্বিক ট্রফি জয়ী অস্ট্রেলিয়া। এবারের বিশ্বকাপেও তারা ফেভারিট। কিন্তু জিম্বাবুয়ে পরিসংখ্যানে তাদের উপরে- দুই ম্যাচ, দুটি জয়। কলম্বোতে তারা নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামায়।
‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটিংবান্ধব কন্ডিশনের সুযোগের সর্বোচ্চ ফায়দা নেয়। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি প্রথম উইকেটে ৬১ রান তুলে ভিত শক্ত করেন।
মারুমানি মার্কাস স্টয়নিসের শিকার হলেও বেনেট ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস টেনে নেন। হিসাবনিকাশ করে রান তুলেছেন। রায়ান বার্ল ৩৫ রান করেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। জিম্বাবুয়ে শেষ করে ২ উইকেটে ১৬৯ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার জবাব দেওয়ার পালা। কিন্তু ২৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা লাগে তাদের ব্যাটিং লাইনে। এই চাপ তারা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ব্লেসিং মুজারাবানি চার উইকেট নিয়ে অজিদের কাবু করেন। তার বাউন্স আর গোছানো লাইনলেন্থেরে বলে টপ অর্ডার নাকানিচুবানি খায়। ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মূলত জিম্বাবুয়ে কন্ডিশন ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে এবং প্রয়োগ করেছে নিখুঁতভাবে।
২০০৭ সালে কেপটাউনে প্রথম আসরে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানে থামায় জিম্বাবুয়ে। এলটন চিগুম্বুরা ৩ উইকেট নেন ২০ রান দিয়ে। জিম্বাবুয়ে রান তাড়ায় ব্রেন্ডন টেলরের ৬০ রানের সুবাদে এক বল হাতে রেখে পাঁচ উইকেটে জেতে। ওই সময় তাদের জন্য সেই জয় ছিল ঐতিহাসিক। ১৯ বছর পর একই ফলের পুনরাবৃত্তি।
দুটি জয়ে একই সূত্র: বল হাতে শুরুতেই উইকেট নেওয়া, মিডল অর্ডারে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য রেখে পারফর্ম করা। জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পেশিশক্তি নয়, তাদের মগজ খাটিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের প্রভাবশালী দলের একটি হিসেবেই নিজেদের পরিচয় এখনো ধরে রেখেছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের রেকর্ড বলছে একটি সাদামাটা গল্প- দুটিতে খেলেছে, দুটিতেই হেরেছে।
এফএইচএম/