চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুরে তিন ফসলি কৃষি জমিতে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন কৃষকরা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি বাঁচাতে বিষের বোতল হাতে ও কাফনের কাপড় পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তারা। জমি রক্ষা না হলে বিষপানে আত্মহত্যা করবেন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খানের কাছে স্বারকলিপিও দিয়েছেন কৃষকরা। 

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কৃঞ্চপুর গ্রামের কয়েক শ কৃষক বিষের বোতল ও কাফনের কাপড় নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করেন। 

কৃষকরা বলেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ১৮০ একর জমিতে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘সাইক্লেক্ট এনার্জি পিটিই লিমিটেড’। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জমি বিক্রির জন্য মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি প্রয়োগ করছে। প্রকল্পের জন্য যে জমি নির্বাচন করা হয়েছে তার সবই তিন ফসলি। সেখানে প্রকল্প স্থাপন করলে কৃষির ওপর নির্ভরশীল গ্রামের পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন। পুরো গ্রামে জমির পরিমাণ ৬০০ একর। যার মধ্যে ৬০ শতাংশই কৃষিজমি। এ ছাড়া ২০ শতাংশ বসতভিটা ও বাকি ২০ শতাংশ বাগান এবং অন্যান্য স্থাপনা। মাঠের জমিতে সব ধরনের ধান, ডাল, পাট, গম, আলু, ভুট্টা, বাদাম, পেয়ারা, তিল এবং বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষ করা হয়। 

কৃষকদের দাবি, সাইক্লেক্ট এনার্জি পিটিই লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকির হুসাইন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের আলোচনা করলে তা প্রত্যাখ্যান করে গ্রামবাসী। এরপর বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব নাজমুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের স্থান পরিদর্শন শেষে চাষযোগ্য জমিতে স্থাপনা না করতে অনুরোধ করেন। তারপরও তারা থামেননি। 
জমি রক্ষার সিদ্ধান্ত না নিলে জেলা প্রশাসকের সামনেই আমরা বিষপানে আত্মহত্যা করব। 

এ বিষয়ে জানতে সাইক্লেক্ট এনার্জি পিটিই লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকির হুসাইনের মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি জমিতে কোনো শিল্প স্থাপনা করা যাবে না। এ নিয়ে গত বছরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা কৃষকদের পক্ষে প্রতিবেদন দিলে সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমি নতুন এসেছি। দু-একদিনের মধ্যে পরিদর্শনে যাব। 

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারের যেহেতু নির্দেশনা রয়েছে কোনো কৃষি জমিতে স্থাপনা হবে না, সেহেতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কৃষকরা যেন তাদের কৃষি জমিতে ফসল আবাদ করে খেতে পারেন সে বিষয়ে আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

আফজালুল হক/আরএআর