একপক্ষীয় নির্বাচন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরে একটি দুষ্ট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। তারা জনগণের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এ জন্য তারা ভীতি ছড়িয়ে সহিংসতার পথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, আপনারা এই খুনি চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ান। দ্রুত এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করুন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জামিয়া রশিদীয়া গোয়ালখালী মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে খুলনা মহানগর ও জেলা ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের খুলনা মহানগর সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইনের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল এবং খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান।

চরমোনাই পীর বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য ও দলীয় অস্ত্রধারীরা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। জুলাই যুদ্ধের অগ্র সৈনিক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীকে এখনো ধরা যায়নি। দিনদুপুরে গুলি করে হত্যাকারী কীভাবে পালিয়ে যায়? তারা জুলাই বিপ্লবীদের স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই বিপ্লবে হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গঠন এবং নতুন রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির যে পথ তৈরি হয়েছে, সেখানে তারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, লুট হওয়া অর্থ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো নেতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছেন, ভিআইপি প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর জরিপের মাধ্যমে জনমতকে একটি বিশেষ দিকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসন একটি বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের খুলনা মহানগর সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, আবু মো. গালিব, জেলা সহসভাপতি মাও. মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, মাও. দ্বীন ইসলাম, এস এম রেজাউল করিম, মো. ইমরান হোসেন মিয়া, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মাও. সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, মাওলানা হারুন আর রশিদ, মো. তরিকুল ইসলাম কাবির, মুফতি আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সৈকত, মুফতি এনামুল হাসান সাঈদ, মো. হুমায়ুন কবির, মাস্টার জাফর সাদেক, মুফতি ইসহাক ফরীদি, মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল, গাজী ফেরদাউস সুমন, মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদী, মো. মঈন উদ্দিন ভুঁইয়া, মাওলানা মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

মোহাম্মদ মিলন/এআরবি